আমের মরসুম শুরু হতেই বাজারে যার চাহিদা তুঙ্গে থাকে, তা হলো ল্যাংড়া। কিন্তু এই আমের নামকরণের ইতিহাস প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ বছর পুরনো। উত্তরপ্রদেশের বেনারস বা বারাণসী থেকেই এই আমের উৎপত্তি। লোককথা অনুযায়ী, বেনারসের এক শিব মন্দিরে একজন সাধু বা ফকির বাস করতেন, যিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন অর্থাৎ তাঁর একটি পা খোঁড়া ছিল। তিনি মন্দিরের আঙিনায় একটি আমের চারা রোপণ করেছিলেন।
সেই গাছে যখন ফল ধরল, দেখা গেল সেই আম অত্যন্ত মিষ্টি, সুগন্ধী এবং আঁশহীন। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সেই আমের স্বাদ নিতে আসতেন। যেহেতু সেই সাধু শারীরিক প্রতিবন্ধী বা ‘ল্যাংড়া’ ছিলেন, তাই তাঁর হাতের সেই বিশেষ আমটির নামও লোকমুখে হয়ে যায় ‘ল্যাংড়া’ আম। পরবর্তীকালে মুঘল সম্রাটদের হাত ধরে এই আম সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।
ল্যাংড়া আমের কিছু খাস তথ্য:
-
স্বাদ ও গন্ধ: এই আম পুরোপুরি পাকলেও এর খোসা হালকা সবুজ থাকে, কিন্তু ভিতরটা হয় উজ্জ্বল সোনালি। এর ঘ্রাণ অত্যন্ত তীব্র ও মনোরম।
-
আঁশহীন রস: ল্যাংড়া আমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর আঁশ অত্যন্ত কম, তাই এটি মুখে দিলেই গলে যায়।
-
ভৌগোলিক স্বীকৃতি: বেনারসি ল্যাংড়া আম ইতিমধ্যেই জিআই (GI Tag) তকমা পেয়েছে। এটি সাধারণত জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়।
-
পুষ্টিগুণ: ভিটামিন সি এবং এ-তে ভরপুর এই আম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।