সুরের জগত এতিম হলো। চিরদিনের মতো স্তব্ধ হয়ে গেল সেই চঞ্চল, সতেজ আর জাদুকরী কণ্ঠস্বর। প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। নবীন প্রজন্মের নায়িকাদের কণ্ঠেও যাঁর কণ্ঠস্বর দশকের পর দশক ধরে সমানভাবে মানিয়ে যেত, সেই প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দেশজুড়ে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা: আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বলেন, “ভারতীয় সংগীতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর শোকবার্তায় লিখেছেন, “আশা দিদি তাঁর বৈচিত্র্যময় কণ্ঠের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সংগীতপ্রেমীদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিলেন। তাঁর অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বেঁচে থাকবে।”
শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক ও বিনোদন জগত: বিরোধী দলনেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এই কিংবদন্তির প্রয়াণে সমবেদনা জানিয়েছেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, “আশা দিদির প্রয়াণ সংগীত জগতের এক নক্ষত্রপতন।”
চিরকাল প্রাসঙ্গিক এক কণ্ঠ: আশা ভোঁসলে কেবল একজন গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৩ সালে ক্যারিয়ার শুরু করে হাজার হাজার গান উপহার দিয়েছেন তিনি। শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে শুরু করে পপ, গজল কিংবা চটুল আইটেম সং—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সবথেকে বিস্ময়কর ছিল তাঁর কণ্ঠের চিরযৌবন। আশির কোঠায় পৌঁছেও তিনি যখন পর্দায় ২০ বছরের নায়িকাদের হয়ে প্লে-ব্যাক করতেন, তখন বোঝার উপায় থাকত না যে কণ্ঠটি কার।
সংগীতের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি: লতা মঙ্গেশকরের পর আশা ভোঁসলের চলে যাওয়া মানে ভারতীয় সংগীতের স্বর্ণযুগের এক মহীরুহের পতন। তাঁর অগণিত ভক্তদের জন্য রেখে গেলেন সুরের এক বিশাল ভাণ্ডার, যা চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।





