পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজে রাজ্য সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে সরব হলো ভারতের নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া এক হলফনামায় কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, বাংলায় ভোটার তালিকা পরিমার্জনের কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের প্রতিনিয়ত হিংসা, ভয় এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় ভয়াবহ অসঙ্গতি ছিল। তদন্তে ৫৮ লক্ষ মৃত, স্থানান্তরিত এবং ‘ভুয়ো’ ভোটারের হদিশ মিলেছে। এই বিপুল পরিমাণ ত্রুটি সংশোধনের জন্য দেড় কোটিরও বেশি ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে, কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। হলফনামায় বলা হয়েছে, অন্য ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কোনো সংঘাত ছাড়াই কাজ চললেও বাংলা কার্যত ‘হটস্পট’-এ পরিণত হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে। কমিশনের দাবি, বিএলও-রা হেনস্থার শিকার হয়ে অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা (DEO) ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ না করলে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমনকি, কলকাতার সিইও দফতরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ভাঙচুর ও ঘেরাওয়ের ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মাকে চিঠি দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ কমিশনের। রাজ্য সরকারের ‘অনীহা’ এবং রাজনৈতিক চাপ ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের পথে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।