সুজাপুরে সাবিনা বনাম মৌসম! টিকিট পেয়েই আসরে তৃণমূলের ‘ঘরের মেয়ে’, মালদহে এবার সম্মুখসমর

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে মালদহ জেলার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ রদবদলটি করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিক এবং রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে তাঁর চেনা পিচ মোথাবাড়ি থেকে সরিয়ে প্রতিবেশী কেন্দ্র সুজাপুরে প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই বুধবার সুজাপুরে পা রাখেন সাবিনা। আর সেখানে বসেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান।

‘২৯৪ আসনেই প্রার্থী মমতা’: সুজাপুরে প্রচারের শুরুতেই সাবিনা ইয়াসমিন কর্মীদের চাঙ্গা করতে বলেন—

“সুজাপুর কেন্দ্রে আমি নই, রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রেই তৃণমূলের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি কেবল তাঁর প্রতিনিধি। আমি এখানকার ঘরের মেয়ে, আজ ঘরেই ফিরে এসেছি।”

মৌসমের সঙ্গে লড়াই ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণ: সাবিনাকে সুজাপুরে পাঠানোর নেপথ্যে তৃণমূলের এক গভীর কৌশল কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • গড় রক্ষা: সুজাপুর ঐতিহ্যগতভাবে গনি খান চৌধুরীর পরিবারের গড়। সেখানে কংগ্রেসের হয়ে লড়াই করতে পারেন মৌসম নূর বা ইশা খান চৌধুরীর পরিবারের কেউ। এই কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলাতে সাবিনার মতো অভিজ্ঞ এবং জনপ্রিয় নেত্রীকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

  • মোথাবাড়ি থেকে বদল: মোথাবাড়িতে এবার তৃণমূলের নতুন মুখ নজরুল ইসলাম। সাবিনাকে সুজাপুরে সরিয়ে এনে মালদহের দক্ষিণ অংশে দলের রাশ আরও শক্ত করতে চাইছে কালীঘাট।

ঘরের মেয়ের ভাবমূর্তি: সাবিনা ইয়াসমিন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, রাজনৈতিকভাবে তিনি মোথাবাড়ির বিধায়ক থাকলেও তাঁর আদি বাড়ি এবং নাড়ির টান সুজাপুরের সঙ্গেই। এই ‘ঘরের মেয়ে’ কার্ড ব্যবহার করে তিনি গনি খান পরিবারের আবেগঘন ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার।

বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া: কংগ্রেস ও বিজেপির পক্ষ থেকে এই প্রার্থী বদলকে ‘তৃণমূলের ভয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের দাবি, মোথাবাড়িতে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ভয়েই সাবিনাকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সুজাপুরে পাঠানো হয়েছে। তবে মাঠের লড়াইয়ে সাবিনা কতটা ম্যাজিক দেখান, তার উত্তর মিলবে মে মাসে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy