রাজনীতির ময়দানে তিনি বরাবরই স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত। এবার তাঁর সেই পরিচিত মেজাজেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় রীতিমতো অগ্নিশর্মা হয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, “সময় থাকতে শুধরে যান, নাহলে এর ফল ভোগ করতে হবে।”
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রকাশ্য জনসভা থেকে তিনি দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করার পাশাপাশি প্রশাসনের একাংশ এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। এদিন সরাসরি কারোর নাম না নিলেও, তাঁর নিশানায় যে শাসক দল ও তাদের ঘনিষ্ঠ কিছু আধিকারিক ছিলেন, তা স্পষ্ট।
ঠিক কী বলেছেন দিলীপ ঘোষ? এদিন ভাষণের শুরু থেকেই বেশ চড়া সুরে কথা বলছিলেন তিনি। এলাকায় চলতে থাকা রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিজেপি কর্মীদের ওপর কথিত হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “কারোর ক্ষমতার দম্ভ চিরকাল থাকে না। যারা ভাবছেন গায়ের জোরে বা পুলিশের ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে, তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। এখনও সময় আছে, নিজেদের শুধরে নিন। জনতা যখন রাস্তায় নামবে, তখন পালানোর পথটুকুও পাবেন না।”
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: দিলীপ ঘোষের এই ‘চরম হুঁশিয়ারি’র ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই পাল্টাপাল্টি বয়ান শুরু হয়েছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ এবং ‘গুণ্ডামি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, দিলীপ-অনুগামীদের দাবি, কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই তিনি এই ধরণের কড়া ভাষা ব্যবহার করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনেই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন বা রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় বিজেপি নেতৃত্ব ঘর গুছিয়ে নিতে চাইছে। আর সেই রণকৌশলের অংশ হিসেবেই দিলীপ ঘোষের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান। তবে তাঁর এই হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব তৃণমূল বা অন্যান্য বিরোধী দলগুলি কীভাবে দেয়, এখন সেটাই দেখার।
DailyHunt বিশেষ প্রতিবেদন।





