সিসিটিভি-তে মুড়ছে যাদবপুর, পুলিশকে হাই-অ্যালার্টে থাকার নির্দেশ প্রধান বিচারপতির; নেপথ্যে কি ছাত্রমৃত্যুর আতঙ্ক?

ছাত্রমৃত্যু থেকে শুরু করে পুকুর থেকে ছাত্রীর দেহ উদ্ধার— বারবার বিতর্কের শিরোনামে উঠে এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (JU)। এবার সরস্বতী পুজোর আগে সেই যাদবপুরের নিরাপত্তা নিয়েই নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, “যাদবপুরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায় সম্পূর্ণ রাজ্যের।”

সরস্বতী পুজোয় কড়া নজরদারি

শুনানির সময় রাজ্য সরকার আদালতে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, সরস্বতী পুজোর দিন যাদবপুর ক্যাম্পাসে প্রচুর বহিরাগত মানুষের আনাগোনা থাকে। এতে নতুন করে অশান্তির সৃষ্টি হতে পারে। এরপরই প্রধান বিচারপতির নির্দেশ, ওই দিন নিরাপত্তার যাবতীয় দায়িত্ব সামলাবে যাদবপুর থানা। ক্যাম্পাসে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকেই।

সিসিটিভি নিয়ে সময়সীমা বেঁধে দিল কোর্ট

ক্যাম্পাসে নজরদারি বাড়ানোর জন্য সিসিটিভি (CCTV) বসানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল। এদিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে, আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে সিসিটিভি বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হবে। তবে আদালত কেবল মৌখিক আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই কাজের অগ্রগতির বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এত উদ্বেগ?

যাদবপুর নিয়ে আদালতের এই কঠোর মনোভাবের পিছনে রয়েছে একাধিক ভয়াবহ স্মৃতি:

  • ছাত্রমৃত্যু ও রহস্যময় মৃত্যু: হস্টেলে ছাত্রমৃত্যুর পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর থেকে এক ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা সামনে এনে দিয়েছিল।

  • রাজনৈতিক উত্তাপ: সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ঘিরে বিক্ষোভ এবং এক ছাত্রকে মন্ত্রীর গাড়ি চাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে উত্তাল হয়েছিল ক্যাম্পাস।

বারবার অশান্তি আর ছাত্রমৃত্যুর ছায়া থেকে যাদবপুরকে বের করে আনতে এবার আইনি রক্ষাকবচ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে শিক্ষা মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy