দেশজুড়ে বাণিজ্যিক এলপিজি (Commercial LPG) সিলিন্ডারের ক্রমবর্ধমান সঙ্কট মেটাতে এবার সরাসরি রাজ্য সরকারগুলির ওপর বড় দায়িত্ব অর্পণ করল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ছোট-বড় রেস্তোরাঁ, ক্যাটারিং ব্যবসা এবং কলকারখানাগুলিতে রান্নার গ্যাসের যে তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলায় রাজ্যগুলিকে জেলা স্তরে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় তেলমন্ত্রক জানিয়েছে, সিলিন্ডারের জোগানে যতটা না সমস্যা, তার চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারি ও কালোবাজারি।
কেন্দ্রীয় তেলমন্ত্রকের জারি করা নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি রাজ্যকে তাদের নিজস্ব এনফোর্সমেন্ট উইং ব্যবহার করে নিয়মিত ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্টগুলোতে তল্লাশি চালাতে হবে। বিশেষ করে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে যাতে কোনও কৃত্রিম অভাব তৈরি করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে জেলাশাসকদের। এছাড়া, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভর্তুকিযুক্ত ঘরোয়া সিলিন্ডার (১৪.২ কেজি) অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পাচার রুখতে রাজ্য পুলিশ ও খাদ্য দপ্তরকে যৌথ অভিযানের দায়িত্ব দিয়েছে কেন্দ্র।
মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি-র দামের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কিছু ডিস্ট্রিবিউটর স্টক লুকিয়ে রাখছেন বলে অভিযোগ জমা পড়েছে। রাজ্য সরকারগুলিকে বলা হয়েছে, যদি কোনও ডিস্ট্রিবিউটর বা ডিলারের বিরুদ্ধে মজুতদারির প্রমাণ মেলে, তবে সরাসরি তাদের লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতা রাজ্য নিজেই প্রয়োগ করতে পারবে। ২০২৬-এর এই কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষায় কেন্দ্র ও রাজ্যের এই সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।