২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার সংখ্যালঘু রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। যে হুমায়ুন কবীরকে নিয়ে কয়েক দিন আগেও তীব্র ‘ছুৎমার্গ’ ছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) তথা নওশাদ সিদ্দিকীর, সেই ভরতপুরের বিধায়ককে নিয়েই এবার দলের অন্দরে শুরু হয়েছে ‘পজিটিভ’ আলোচনা। সূত্রের খবর, আইএসএফ-এর রাজ্য কমিটির বৈঠকে হুমায়ুন কবীরের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ইতিবাচক কথা হয়েছে। এমনকি হুমায়ুন তাঁর পুরনো বিতর্কিত মন্তব্য থেকে সরে আসায় নওশাদদের দলে তাঁর প্রশংসাও হয়েছে।
বামফ্রন্টের সঙ্গে আইএসএফ-এর জোট এখনও অনিশ্চিত। নওশাদদের অভিযোগ, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকে বারবার ইমেল এবং ফোন করা হলেও বিমান বসুদের তরফ থেকে কোনো সদুত্তর মিলছে না। এই দীর্ঘসূত্রতাই কি আইএসএফ-কে হুমায়ুনের ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র দিকে ঠেলে দিচ্ছে? নওশাদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, “আমরা সর্বতোভাবে জোটের (সিপিএম) চেষ্টা করছি, কিন্তু ওদিক থেকে প্রতিক্রিয়া পেতে একটু সমস্যা হচ্ছে।” তবে হুমায়ুন প্রসঙ্গে তাঁর সুর অনেকটা নরম। তিনি বলেন, “উনি বিগত দিনের মন্তব্য থেকে ফিরে এসেছেন। আশা রাখব কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে তিনি মদত দেবেন না।”
হুমায়ুন কবীর অবশ্য হাল ছাড়েননি। ফুরফুরা শরিফে পীরজাদাদের সঙ্গে দেখা করার পর এবার তিনি আইএসএফ-এর রাজ্য কমিটির গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায়। আগামী সপ্তাহের বৈঠকেই চূড়ান্ত হতে পারে হুমায়ুনের সঙ্গে নওশাদদের জোটের ভবিষ্যৎ। তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিপিএম-আইএসএফ-হুমায়ুন-মিম জোটের যে ব্লু-প্রিন্ট হুমায়ুন সাজিয়েছেন, তার ভবিষ্যৎ এখন অনেকটা বামেদের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে রয়েছে।