গৌরেলা-পেন্ড্রা-মরবাহী (GPM) জেলা হাসপাতালে সন্তান প্রসবের জন্য আসা এক প্রসূতি ও তার অনাগত সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে বড়সড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতি এবং সময়মতো অস্ত্রোপচার (সি-সেকশন) না করার কারণেই মা ও সন্তানের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পরিবারের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উল্টো তাদেরই দোষারোপ করেছে—বলা হয়েছে দেরিতে হাসপাতালে আসার কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।
ঘটনাটি গৌরেলা উন্নয়ন ব্লকের যোগীসার গ্রামের তরাইয়া পাড়ার বাসিন্দা অনিতা বাইকে নিয়ে। ২৯ নভেম্বর সকালে প্রসব বেদনা উঠলে চতুর্থ বারের গর্ভবতী অনিতাকে গ্রাম্য স্বাস্থ্যকর্মী (মিতানিন) ক্রান্তি পৈকরার সহায়তায় সকাল ১০টায় অ্যাম্বুলেন্স করে জেলা হাসপাতালে আনা হয়।
পরিবারের গুরুতর অভিযোগ: সকালে এনেছি, সন্ধ্যায় রেফার!
মৃতার স্বামী শঙ্কর যাদব এবং শাশুড়ি মুন্নি বাইয়ের অভিযোগ, “আমরা সকাল ১০টায় হাসপাতালে পৌঁছানোর পরেও সন্ধ্যা পর্যন্ত তার অপারেশন করা হয়নি। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় স্ত্রীর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে।” শঙ্কর যাদব বলেন, “নার্সরা আমাদের জানাননি যে পরিস্থিতি গুরুতর। ডাক্তাররা দু’বার অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়েও কিছু না করেই সময় নষ্ট করেছেন। শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বिलासपुर সিমস হাসপাতালে রেফার করা হলো। কিন্তু বिलासपुर নিয়ে যাওয়ার পথেই আমার স্ত্রী এবং সন্তান দুজনেই মারা যায়। জেলা হাসপাতালের চরম গাফিলতির ফল এটি।”
সিএমএইচও-এর পাল্টা দাবি: বারবার উপেক্ষা করেছেন রোগীর পরিবার
জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমএইচও) ডাঃ রামেশ্বর পৈকরা অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, প্রসূতিকে তিন দিন আগেই হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সবসময় একা আসতেন এবং ভর্তি হতে রাজি না হয়ে ফিরে যেতেন। ডাঃ পৈকরার মতে, “পরিবারের এই অবহেলাই মৃত্যুর প্রধান কারণ। যখন তারা রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। বাচ্চা আটকে গিয়েছিল এবং ওটি টেবিলে অত্যধিক রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ায় দ্রুত রেফার করতে হয়। ডাক্তাররা নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।”
ডাঃ পৈকরা সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে গ্রামীণদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন—ডাক্তাররা হাসপাতালে ভর্তির যে পরামর্শ দিচ্ছেন, তা যেন সময়মতো পালন করা হয়।