গ্যাংটক ও শিলিগুড়ি: হিমালয়ের কোলে কি বড় কোনো বিপদের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে? সিকিম এবং উত্তরবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমানসে। গত ২০ দিনে সিকিম ও সংলগ্ন এলাকায় ৫০টিরও বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান স্বাভাবিকভাবেই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ভূ-বিজ্ঞানীদের কপালে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, সাধারণ মানুষ এখন ঘরের ভেতর থাকতেও ভয় পাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকালেও দু’বার কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা, যার উৎসস্থল ছিল প্রতিবেশী রাজ্য সিকিম।
২০ দিনে ৫০ বার কম্পন: এক নজিরবিহীন ঘটনা আবহাওয়া দপ্তর ও সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিকিম এবং ভারত-চীন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৫০ বারের বেশি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ কম্পনের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৩.০ থেকে ৪.৫-এর মধ্যে থাকলেও, ঘনঘন এই কম্পন মাটির নিচের প্লেটের অস্থিরতাকেই ইঙ্গিত করছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই মৃদু কম্পন অনুভূত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবারের জোড়া ধাক্কা বৃহস্পতিবার সকালেও উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের বাসিন্দারা দু’বার ভূকম্পন অনুভব করেন। প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয় ভোরবেলা, যখন মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয়বার কেঁপে ওঠে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং সিকিমের গ্যাংটক। যদিও এই কম্পনে এখনও পর্যন্ত কোনো বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে মানুষের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যাংটকের অনেক বহুতল ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
কেন এই ঘনঘন কম্পন? ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, সিকিম ও উত্তরবঙ্গ হিমালয়ের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘সিসমিক জোন ৫’-এর মধ্যে পড়ে। মাটির নিচে থাকা ইন্ডিয়ান প্লেট এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের অনবরত ঘর্ষণের ফলে এই চ্যুতিরেখাগুলি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এই ছোট ছোট অগুনতি কম্পন আসলে কোনো বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। পাহাড়ের ঢালে অপরিকল্পিত নির্মাণ এবং বড় বড় বাঁধ তৈরির ফলেও ভূ-স্তরে চাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদদের একাংশ। বর্তমানে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।