২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি বেজে গিয়েছে। আর ভোটের লড়াইয়ে নামার আগেই মাস্টারস্ট্রোক দিল ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সামনে আনা হয়েছে ‘১০ প্রতিজ্ঞা’, যা বাংলার প্রতিটি মানুষের আর্থ-সামাজিক জীবনে আমূল পরিবর্তন আনার দাবি করছে। এই ১০টি শপথের মধ্যে সবথেকে বড় চমক হল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং যুবক-যুবতীদের জন্য ‘হাত খরচের টাকা’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই জনমোহিনী ঘোষণা বিরোধীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
তৃণমূলের নতুন ইশতেহারে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প কেবল সাময়িক নয়, বরং রাজ্যের মহিলারা আজীবন এই আর্থিক সুবিধা পাবেন। এখানেই শেষ নয়, শিক্ষিত বেকারদের জন্য চিরাচরিত ‘বেকার ভাতা’র পরিবর্তে এবার ‘হাত খরচের জন্য টাকা’ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে শাসকদল। সরকারি সূত্রে খবর, ঈদের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রচারে নামবে তৃণমূল নেতৃত্ব, যেখানে এই ‘১০ প্রতিজ্ঞা’কে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের হাতে সরাসরি নগদ পৌঁছে দিয়ে তাঁদের ক্ষমতায়ন করাই তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করেছে। এখন ‘সারাজীবন টাকা’ এবং যুবকদের ‘হাত খরচ’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত মহিলা ও তরুণ প্রজন্ম—উভয় ভোটকেই সুনিশ্চিত করতে চাইছেন। বিরোধীরা একে ‘খয়রাতি’ বলে কটাক্ষ করলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতিবাচক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে এই ‘১০ প্রতিজ্ঞা’ই কি তৃণমূলের তুরুপের তাস হতে চলেছে? উত্তর দেবে সময়।