প্রকৃতির অন্দরে লুকিয়ে রয়েছে হাজারো রহস্য, যার অনেক কিছুই আমাদের কল্পনার বাইরে। আমরা সাধারণত জানি সাপ মানেই গর্তে থাকা বা অন্যের বানানো বাসায় হানা দেওয়া এক প্রাণী। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই পৃথিবীতে এমন এক প্রজাতির সাপ আছে যারা দস্তুরমতো ইঞ্জিনিয়ার? পাখির মতো খড়কুটো আর পাতা কুড়িয়ে সযত্নে বাসা তৈরি করে তারা। অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। এই অনন্য প্রাণীটি হলো ‘কিং কোবরা’ বা রাজগোখরো।
পৃথিবীর একমাত্র সাপ হিসেবে রাজগোখরোই নিজের বাসা নিজে তৈরি করে। সাধারণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঘন জঙ্গলে এদের দেখা যায়। স্ত্রী রাজগোখরো ডিম পাড়ার সময় হলে বনের শুকনো পাতা এবং ডালপালা লেজের সাহায্যে টেনে এক জায়গায় জড়ো করে। এরপর শরীরের কুন্ডলী পাকিয়ে সেই স্তূপের ওপর চাপ দিয়ে একটি উঁচু ঢিবির মতো বাসা তৈরি করে। এই বাসার দুটি স্তর থাকে—নিচের স্তরে ডিম রাখা হয় এবং উপরের স্তরে মা সাপ নিজে পাহারায় থাকে।
কেন এই পরিশ্রম? আসলে ডিমগুলোকে সঠিক তাপমাত্রা এবং বাইরের শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতেই রাজগোখরোর এই রাজকীয় আয়োজন। প্রায় দুই থেকে তিন মাস মা সাপ না খেয়ে সেই বাসার ওপর বসে ডিম পাহারা দেয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার ঠিক আগেই মা সাপ বাসা ছেড়ে চলে যায়, যাতে খিদের চোটে সে নিজের বাচ্চাদেরই খেয়ে না ফেলে! প্রকৃতির এই অদ্ভুত ভারসাম্য এবং সাপের বাসা বানানোর এই দক্ষতা বিজ্ঞানীদের আজও মুগ্ধ করে।