দিল্লির রাজনীতিতে বড়সড় ধস! আম আদমি পার্টি (AAP) ছেড়ে সপরিবারে বিজেপিতে যোগ দিলেন রাঘব চাড্ডা সহ একাধিক হেভিওয়েট সাংসদ। এই দলবদলকে কেন্দ্র করেই এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। ক্ষুব্ধ আপ নেতৃত্বের অভিযোগ, সব সুযোগ-সুবিধা পেয়েও শেষমেশ ‘বিজেপির কোলে’ চড়ে বসলেন এই নেতারা।
‘অপারেশন লোটাস’ ও ইডি-সিবিআই জুজু
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং রীতিমতো তোপ দাগেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং সিবিআই-এর ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক সাংসদদের দলবদল করানো হয়েছে। সঞ্জয় সিংয়ের অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলি হলো:
অপারেশন লোটাস: কেন্দ্রীয় এজেন্সি ব্যবহার করে বিরোধী দল ভাঙার চেষ্টা করছে বিজেপি।
টার্গেট পাঞ্জাব: দিল্লির পাশাপাশি ভগবন্ত মানের পাঞ্জাব সরকারকেও ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।
সাত সাংসদ: আপ-এর দাবি অনুযায়ী, তাদের মোট ৭ জন রাজ্যসভা সাংসদকে টোপ বা ভয় দেখিয়ে নিজেদের দিকে টেনেছে বিজেপি।
কে কে ছাড়লেন কেজরিওয়ালের হাত?
এতদিন রাজ্যসভায় আপ-এর দাপট থাকলেও, এক ধাক্কায় তা কার্যত ধূলিসাৎ হতে চলেছে। রাঘব চাড্ডার দাবি অনুযায়ী, দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ এখন বিজেপির পথে। তালিকায় রয়েছেন:
রাঘব চাড্ডা
সন্দীপ পাঠক
অশোক মিত্তল
স্বাতী মালিওয়াল
হরভজন সিং * এবং আরও দুই সাংসদ।
“দলের হয়ে যখন যা চেয়েছেন, সব দেওয়া হয়েছে। তবুও বেইমানি করে বিজেপিতে যোগ দিলেন তাঁরা।” — আপ নেতৃত্বের আক্ষেপ।
রাঘব চাড্ডার পাল্টা যুক্তি
অন্যদিকে, বিজেপিতে যোগ দিয়েই সুর বদলেছেন রাঘব চাড্ডা। তাঁর দাবি, কোনো চাপ নয়, বরং সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই তাঁরা দলবদল করেছেন। রাজ্যসভায় আপ-এর ১০ জন সাংসদের মধ্যে অধিকাংশ সদস্যই এখন বিজেপির পতাকাতলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভোটের আবহে এই বিশাল ভাঙন দিল্লির রাজনীতিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জন্য কত বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।





