সোমবার সকাল থেকেই সল্টলেকের বিজেপি পার্টি অফিসের সামনের চত্বর যেন এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম দিনটিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাকরিপ্রার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজেদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কানে পৌঁছাতে আজ সকাল থেকেই ভিড় জমান রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বেকার যুবক-যুবতীরা।
জানা গেছে, এদিন সকাল থেকেই ১৫টিরও বেশি চাকরিপ্রার্থী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সল্টলেকের ওই পার্টি অফিসের সামনে সমবেত হন। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঝুলে থাকা সমস্যা, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং নিয়োগ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরতেই তাঁরা আজ মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে হাজির হয়েছেন। নিয়োগের দাবি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা আজ সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল থেকেই যেভাবে ভিড় বাড়তে শুরু করে, তাতে বিজেপি অফিসের নিরাপত্তারক্ষীদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীরা ছাড়াও এদিন বহু মানুষ তাঁদের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা জানাতেও দরবারে পৌঁছান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। অভিযোগ ও দাবিগুলো শোনার পাশাপাশি, তিনি প্রতিটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন যে, রাজ্যের বেকার সমস্যার সমাধানে সরকার বদ্ধপরিকর।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিটি সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। চাকরিপ্রার্থীদের এত বড় জমায়েত বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের শিক্ষিত সমাজের মনে কতটা ক্ষোভ ও প্রত্যাশা জমা হয়ে আছে। মুখ্যমন্ত্রী আজ প্রতিনিধিদের কাছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং আইনি জটিলতাগুলো নিয়েও আলোচনা করেছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
সোমবারের এই ব্যস্ততা আবারও প্রমাণ করল, বাংলার যুবসমাজের কাছে কর্মসংস্থান কতটা স্পর্শকাতর ইস্যু। দরবারে আগত প্রতিনিধিদের দাবি, দ্রুত স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হোক এবং বঞ্চনার অবসান ঘটুক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপের পর আগামী দিনে নিয়োগের জট খুলবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। তবে আজকের এই জনসমাগম নিশ্চিতভাবেই রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।





