ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের যে সংশয় ছিল, তা এবার আরও জোরালো রূপ নিল। রবিবার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠক থেকে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এবার সরাসরি নাম বাদ না দিয়ে ‘বিচারাধীন’ বা ‘Under Review’ ট্যাগ ব্যবহার করে এক বিশাল অংশের মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত চলছে। বিশেষ করে মহিলা, সংখ্যালঘু এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষদের বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কেবল মৌখিক অভিযোগ তুলেই ক্ষান্ত হননি, বরং হাতে-কলমে জেলাভিত্তিক ও বিধানসভা ভিত্তিক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু পকেটে যেখানে তৃণমূলের জনভিত্তি মজবুত, সেখানে অস্বাভাবিক হারে ভোটারদের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় ফেলে রাখা হয়েছে। অভিষেকের কথায়, “সরাসরি নাম কাটলে মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়বে, তাই অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে ‘বিচারাধীন’ ট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে ওই মানুষগুলো শেষ মুহূর্তে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করা হচ্ছে।”
তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সীমান্তসংলগ্ন জেলা এবং জঙ্গলমহলের আদিবাসী প্রধান এলাকাগুলোতে এই প্রবণতা সবথেকে বেশি। অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, কেন কেবল নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের নথিপত্র নিয়েই বারবার প্রশ্ন তোলা হচ্ছে? তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গণতন্ত্রে ভোটার তালিকাই শেষ কথা। সেখানে যদি মহিলা ও জনজাতিদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হয়, তবে তৃণমূল কংগ্রেস হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।” রবিবারের এই সাংবাদিক বৈঠক থেকে স্পষ্ট যে, আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা ইস্যুকেই কেন্দ্রীয় হাতিয়ার করে ময়দানে নামতে চলেছে জোড়াফুল শিবির।