পাহাড় জয়ের নেশায় বেরিয়েছিলেন, কিন্তু পাহাড়ের পরিবর্তে জীবন থেকে হারাতে হলো ২০টি আঙুল! সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত অভিযানে গিয়ে নিম্নমানের সরঞ্জামের কারণে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন পান্ডুয়ার এক পর্বতারোহী। এক সময়ের পাহাড় বিজয়ী এই মানুষটি এখন পান্ডুয়ায় সামান্য জেরক্সের দোকান চালিয়ে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছেন।
কী ঘটেছিল সেই অভিযানে? শ্রীকৈলাস অভিযানে গিয়ে চরম বিপত্তির মুখে পড়েন তিনি। পর্বতারোহীর অভিযোগ, অভিযানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। প্রচণ্ড তুষারপাতের মধ্যে তাঁবুর ভেতর জল ঢুকে যাচ্ছিল। তাঁর দাবি, জ্যাকেট থেকে শুরু করে জুতো, গ্লাভস এবং স্লিপিং ব্যাগ—কোনোটিই বরফাচ্ছন্ন এলাকায় ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। হিমশীতল পরিবেশে সেই সরঞ্জাম সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ‘ফ্রস্টবাইট’-এর কবলে পড়েন তিনি। চিকিৎসার পর প্রাণ ফিরলেও হাত ও পায়ের মোট ২০টি আঙুল বাদ দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা।
‘এখন বেঁচে থাকাই লড়াই’ অভিযানের সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায় তাঁকে। নিম্নমানের সরঞ্জামের জন্য নিজের শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে এখন তাঁর জীবন আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো নয়। সরকারি অবহেলা ও সরঞ্জামের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “পাহাড় চড়ার জন্য যে সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছিল, তা ওই আবহাওয়া সহ্য করার মতো ছিল না। আজ আমার আঙুল নেই, খেলাধুলার স্বপ্ন শেষ। পেট চালানোর জন্য এখন জেরক্সের দোকানই সম্বল।”
একজন পর্বতারোহীর এমন পরিণতির খবরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত অভিযানের ক্ষেত্রে সরঞ্জামের গুণমান নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ কি নেবে প্রশাসন? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রীড়ামহলে।





