২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গের তৃণমূল রাজনীতিতে বড়সড় ধস। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিক, নাটাবাড়ির প্রাক্তন বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূলের অন্যতম স্তম্ভ রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবার ব্রাত্য দলের প্রার্থী তালিকায়। বুধবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই নিজের ক্ষোভ আর গোপন রাখতে পারেননি তিনি। আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন, জীবনের শেষলগ্নে এসে এমন ‘অপমান’ তিনি আশা করেননি।
আবেগী রবীন্দ্রনাথ ও ‘সম্মানের অবসর’: ২০১১ এবং ২০১৬ সালে নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জোড়াফুল ফুটিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ বাবু। উত্তরবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম সেনাপতি হিসেবে পরিচিত এই নেতা বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “আমি আশা করেছিলাম দল আমায় সম্মানের সঙ্গে অবসর নেওয়ার সুযোগ দেবে। কিন্তু সেই সম্মানটুকুও আমার কপালে জুটল না।”
বিস্ফোরক অভিযোগ ও নাটাবাড়ির সমীকরণ: তৃণমূলের অন্দরের খবর, গত কয়েক বছর ধরে কোচবিহারের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এবার তাঁর জায়গায় তরুণ মুখকে অগ্রাধিকার দিয়েছে দল। এই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য:
-
অবহেলা: দলের দুর্দিনে কাজ করেছি, অথচ আজ ব্রাত্য করে দেওয়া হলো।
-
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: টিকিট না পাওয়ায় অনুগামীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ। তিনি কি নির্দল হিসেবে দাঁড়াবেন? এই প্রশ্নে আপাতত নীরব ‘রবি ঘোষ’।
-
অভিমান: দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাউকেই পাশে পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।
তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি: উত্তরবঙ্গে যখন বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা, তখন রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মতো একজন দাপুটে নেতার এই বিদ্রোহ কোচবিহার জেলায় ঘাসফুল শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রবি ঘোষকে ব্রাত্য করায় দলের ভোটব্যাঙ্কে বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারসংক্ষেপ:
-
নাটাবাড়িতে বদল: টিকিট পেলেন না রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।
-
ক্ষোভের সুর: ‘অপমানিত’ বোধ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা ঘনিষ্ঠ এই নেতা।
-
নির্বাচনী প্রভাব: উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এই ক্ষোভের আগুন কি প্রভাব ফেলবে ভোটের ফলে?