পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত হওয়া নিয়ে এবার খোদ প্রশাসনিক আধিকারিকদের মধ্যেই বিদ্রোহের সুর। রাজ্য নির্বাচন আধিকারিকের (CEO) দপ্তর থেকে আধিকারিকদের প্রতি দেওয়া একটি বার্তায় এই ‘অমীমাংসিত’ ভোটারদের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরে গাফিলতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। তারই প্রতিবাদে এবার সরব হয়েছে আধিকারিকদের সংগঠন। তাঁদের সাফ দাবি, “যান্ত্রিক ত্রুটি বা সফটওয়্যারের সমস্যার দায় কোনোভাবেই আধিকারিকদের ওপর চাপানো যাবে না।”
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় নির্দেশিকা বারবার পরিবর্তন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত। আধিকারিকদের দাবি, গ্রাউন্ড লেভেলে বিএলও (BLO) বা এআরও (AERO)-রা দিনরাত এক করে কাজ করলেও পরিকাঠামোর অভাবে এই বিপুল পরিমাণ নাম অমীমাংসিত রয়ে গিয়েছে। এখন যদি এই ভোটারদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তবে তার দায় সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের। আধিকারিকদের এই প্রকাশ্য প্রতিবাদ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনের অন্দরে বড়সড় ফাটল হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। এই চাপের মুখে সিইও দপ্তর তাঁদের অবস্থান বদলায় কি না, সেটাই এখন দেখার।