শুক্রবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দর চত্বরে এক মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক ঘটনার সাক্ষী থাকল শহরবাসী। বেঙ্গালুরুগামী ইন্ডিগো বিমানের এক ষাটোর্ধ্ব যাত্রী সপরিবারে সফর শুরু করার ঠিক প্রাক-মুহূর্তে তীব্র শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হন। সূত্রের খবর, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরেই তিনি বুকে প্রবল ব্যথা অনুভব করতে শুরু করেন। তড়িঘড়ি বিমানবন্দরের মেডিকেল টিমের পক্ষ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা হলেও অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এরপর দ্রুত তাঁকে বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই অনভিপ্রেত মৃত্যুতে যাত্রীর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই ঘটনাটি এমন একটি সময়ে ঘটল যখন ইন্ডিগো বিমান সংস্থার পরিষেবা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বাঁধছে। সম্প্রতি ইন্ডিগোর প্রযুক্তিগত ও परिचालनগত বিপর্যয়ের জেরে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৭৬টি উড়ান বাতিল করতে হয়েছে। হাজার হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে এসে জানতে পারছেন তাঁদের ফ্লাইট বাতিল, যার ফলে চরম হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আগে থেকে কোনো বার্তা বা সতর্কবার্তা না পাওয়ায় যাত্রীরা ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, বিমান বা ট্রেন সফরের সময় যাত্রীদের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা আকস্মিক হলেও, পরপর এমন ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। মাসখানেক আগেই ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে হ্যানয় যাওয়ার পথে এক জার্মান নাগরিক এম. বুহলার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বিমানে জরুরি অবতরণ করিয়ে তাঁকে বাইপাসের ধারের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। আকাশপথে দীর্ঘ সফরের সময় মেডিকেল ইমার্জেন্সি মোকাবিলায় বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থাগুলির আরও সক্রিয় ও সতর্ক ভূমিকা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।