সন্দেশখালিতে প্রাক্তন বিধায়কের ক্লাবে ত্রাণের পাহাড়! সরকারি সামগ্রী উদ্ধার ঘিরে রণক্ষেত্র এলাকা

উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি ফের উঠে এল খবরের শিরোনামে। এবার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতোর নিয়ন্ত্রণাধীন ‘কানমারী মোহনবাগান ক্লাব’ থেকে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ সরকারি কৃষি সামগ্রী, কম্বল এবং ত্রিপল। সরকারি ত্রাণ সামগ্রী এভাবে ক্লাবে মজুত থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কানমারী এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ওই ক্লাব ঘরে হানা দেন। সেখানে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে সরকারি সিলমোহর যুক্ত শত শত কম্বল ও উন্নতমানের কৃষি সামগ্রীর পাহাড়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দুর্গত মানুষের জন্য বরাদ্দ এই ত্রাণ সামগ্রী বছরের পর বছর ক্লাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ব্যক্তিগত স্বার্থে বা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার উদ্দেশ্যে। মমতাজ সরদার নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গরিবের অধিকার হরণ করে এই সামগ্রী চুরি করে রাখা হয়েছিল। অবিলম্বে এগুলি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হোক।”

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপি নেতৃত্ব তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। বিজেপি নেত্রী পিয়ালী দাস অভিযোগ করেন, “তৃণমূলের চুরির পাঠশালা কালীঘাট থেকে শুরু করে বুথ স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত। আয়লা বা আমফানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় গরিব মানুষের জন্য আসা ত্রাণ সামগ্রী এই নেতারা নিজেদের কাছে আটকে রেখেছিল। সন্দেশখালির বহু মানুষ এখনো চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করেন, কিন্তু এই নেতারা গরিবের হক আত্মসাৎ করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছে।” তিনি এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং সুকুমার মাহাতোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক সুকুমার মাহাতো। তাঁর দাবি, “আমি দীর্ঘ ১০ বছর বিধায়ক ছিলাম। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি বিধায়ক কোটার জিনিসপত্র, যা ঈদের সময় মহকুমা শাসকের অফিস থেকে এসেছিল। রাখার জায়গা না থাকায় এগুলি সাময়িকভাবে ক্লাবে রাখা হয়েছিল। কিন্তু রমজান মাসে নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হওয়ায় বিডিও-র পরামর্শে তা বিলি করা সম্ভব হয়নি। আমি কোনো চুরি করিনি, এগুলি রাজনৈতিক অপপ্রচার।”

ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় সন্দেশখালির রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy