সন্দেশখালিতে এসটিএফ-এর বড় সাফল্য! পুকুর থেকে উদ্ধার অস্ত্র-বিস্ফোরক, তৃণমূল নেতা সহ ধৃত ৬

শনিবার সাত সকালে এসটিএফ (STF)-এর অভিযান ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল সন্দেশখালি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাটিকে ঘিরে ফেলেছিল এসটিএফ-এর তিনটি বিশেষ দল। তল্লাশি চালিয়ে মনিপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হলো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি রবিন দাস ও তাঁর ভাই গোপাল দাস-সহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুকুর থেকে যা মিলল: সূত্র মারফত জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসটিএফ সদস্যরা রবিন দাসের বাড়ির পেছনে থাকা একটি পুকুরে তল্লাশি চালান। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর পুকুরের জল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র এবং বেশ কিছু বিস্ফোরক সামগ্রী। অস্ত্রগুলো মজুত করে রাখা হয়েছিল কি না বা কোনো নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

এসটিএফ-এর রণকৌশল: শনিবার ভোরেই এসটিএফ-এর তিনটি দল বিভক্ত হয়ে সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লকের মনিপুর গ্রামে হানা দেয়। প্রথম দলটি সরাসরি পৌঁছে যায় তৃণমূল নেতা রবিন দাস ও তাঁর ভাই গোপাল দাসের বাড়িতে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই পুকুরে লুকিয়ে রাখা এই অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ মেলে।

রাজনৈতিক চাঞ্চল্য: এই গ্রেফতারির পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিরোধীরা দীর্ঘ দিন ধরেই সন্দেশখালিতে ‘অস্ত্রের রাজনীতি’ নিয়ে সরব ছিল। এই ঘটনা সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করল। অন্যদিকে, ধৃতদের জেরা করে এসটিএফ জানার চেষ্টা করছে এই অস্ত্রের উৎস কোথায় এবং এর পেছনে আর কারা যুক্ত আছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ: ধৃতদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে এসটিএফ। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তল্লাশি অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। সন্দেশখালির এই ঘটনা আগামী দিনে বড় কোনো তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy