তিলোত্তমার মৃত্যুর পর কেটে গেছে মাসের পর মাস। সিবিআই চার্জশিট জমা দিয়েছে, বিচার প্রক্রিয়াও চলছে। কিন্তু এই দীর্ঘ লড়াইয়ের মাঝে এবার বোমা ফাটালেন নিহতের মা রত্ন দেবনাথ। তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। সরাসরি প্রশ্ন তুললেন—সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায় কি সত্যিই প্রকৃত অপরাধী, নাকি কেবলই দাবার ঘুঁটি?
সঞ্জয় রায় কি কেবলই মুখ রক্ষা?
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রত্ন দেবনাথ স্পষ্ট জানান, সঞ্জয় রায় প্রকৃত অপরাধী কিনা তা এখনও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “সঞ্জয় রায় অপরাধী কিনা তা এখনও ঠিক হয়নি, আইন বিচার করবে। কিন্তু তদন্তের যা গতিপ্রকৃতি, তাতে মনে হচ্ছে আসল মাথাদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।” ### জেলে থাকার কথা ছিল কাদের? অভয়ার মায়ের ক্ষোভের তির সেইসব প্রভাবশালীদের দিকে, যাদের নাম শুরু থেকেই এই মামলার সঙ্গে জড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন:
প্রভাবশালী মহলের হাত: অপরাধের ধরন এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ বলছে, এটি কোনো একজনের কাজ নয়।
প্রমাণের বিনাশ: আরজি করের সেই রাতের ঘটনার পর কেন তড়িঘড়ি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল? সেই আধিকারিকরা এখনও কেন মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন?
বড় চক্রান্তের ইঙ্গিত: রত্ন দেবনাথের মতে, এমন অনেক লোক বাইরে আছে যাদের আজ গরাদের পেছনে থাকার কথা ছিল। তাদের বাঁচাতেই কি সঞ্জয়কে সামনে আনা হয়েছে?
আন্দোলন ও বিচারের প্রতীক্ষা
সন্তান হারানো মায়ের এই হাহাকার ও সংশয় সাধারণ মানুষের মনে আবারও সেই পুরনো প্রশ্নগুলোকে উসকে দিয়েছে। আরজি কর নিয়ে রাজ্যব্যাপী যে ক্ষোভের আগুন জ্বলেছিল, রত্ন দেবনাথের এই বয়ানের পর তা আবারও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
উপসংহার: তিলোত্তমার বিচার চেয়ে যখন সারা বাংলা একজোট, তখন মায়ের এই অবিশ্বাসের সুরটি প্রশাসনের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঞ্জয় রায়ের বাইরেও কি অন্য কোনো অপরাধী চক্র এই জঘন্য অপরাধের পেছনে ছিল? উত্তর এখন আদালতের রায়ের অপেক্ষায়।





