সংসদে মাস্টারস্ট্রোক! বিরোধীরা অনাস্থা আনতেই ওম বিড়লার বড় চাল, বিপাকে ইন্ডিয়া জোট?

লোকসভা নির্বাচনের আবহে সংসদের অন্দরে সংঘাত তুঙ্গে। স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস আনতেই জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের এই আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের পাল্টা হিসেবে ওম বিড়লা এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা বিরোধী শিবিরে চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে।

সংবিধানের প্যাঁচে স্পিকার বনাম বিরোধী: সংসদের নিয়ম এবং সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লোকসভার স্পিকারকে পদ থেকে সরাতে গেলে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

  • ভোটাভুটিই শেষ কথা: শুধুমাত্র নোটিস দিলেই পদ খোয়াতে হয় না স্পিকারকে। লোকসভার সাংসদদের ভোটাভুটির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এই প্রস্তাব পাশ করাতে হবে। বর্তমান সংখ্যামত্ত্বের হিসেবে যা বিরোধীদের জন্য প্রায় অসম্ভব।

  • চেয়ার ছাড়ার নিয়ম: নিয়ম বলছে, যখন স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে, তখন তিনি নিজে ‘চেয়ার’ বা সভাপতির আসনে থাকতে পারবেন না। এই সুযোগেই বিরোধীরা বড় কোনো চাল চালার চেষ্টা করছিল।

চাপে পড়লেন রাহুলরা? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওম বিড়লা বিরোধী নোটিস পাওয়ার পর অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। বিরোধীদের অভিযোগের মোকাবিলা করতে তিনি কোনো রক্ষণাত্মক পথে না হেঁটে বরং আইনি ও সংসদীয় প্রথা মেনেই পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিজেপির পক্ষ থেকেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, তাঁরা স্পিকারের পাশেই আছেন। ফলে অনাস্থা প্রস্তাব আনলেও সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে রাহুল গান্ধীরা কোণঠাসা হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন এই সংঘাত? বিরোধীদের দাবি, স্পিকার নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করছেন না এবং বিরোধী সদস্যদের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রেজারি বেঞ্চের দাবি, সংসদের কাজে বাধা সৃষ্টি করতেই বিরোধীরা এই ধরণের ভিত্তিহীন প্রস্তাব আনছে।

উপসংহার: লোকসভা নির্বাচনের মুখে স্পিকারের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ আসলে একটি ‘প্রতীকী লড়াই’। কিন্তু ওম বিড়লার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত বুঝিয়ে দিল, তিনি এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। এখন দেখার, সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে জল কতদূর গড়ায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy