২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দিল্লির সংসদ কক্ষ থেকে বিরোধীদের কড়া ভাষায় বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৬ এপ্রিল, ২০২৬-এর বিশেষ অধিবেশনে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম) নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধীদের ‘দ্বিমুখী মানসিকতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা— তৃণমূল স্তরে মহিলাদের কথা বললেও, আইনসভায় তাঁদের অধিকার দেওয়ার সময় কেন হাত কাঁপে বিরোধীদের?
মোদী-র মোক্ষম তোপ: এদিন লোকসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী কটাক্ষের সুরে বলেন, “পঞ্চায়েতে মহিলাদের সংরক্ষণ দিতে আপনাদের খুব একটা অসুবিধা হয় না, কিন্তু যখনই বিধানসভা বা সংসদের প্রসঙ্গ আসে, তখনই কেন ভয় লাগে?” তাঁর দাবি, বিরোধীরা দশকের পর দশক ধরে কেবল কথার জালে মহিলাদের ভুলিয়ে রেখেছে, কিন্তু বাস্তবে তাঁদের ক্ষমতায়ন চায়নি।
‘৪০ বছরের পাপ ক্ষালনের সুযোগ’ প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, মহিলা সংরক্ষণের বিষয়টি গত চার দশক ধরে ঝুলে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা আজ এই হাউসে যা করছি, তা কোনো করুণা নয়। এটা তাঁদের অধিকার। দশকের পর দশক ধরে আমরা তাঁদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছি। আজকের দিনটি আমাদের সেই পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ।”
বিরোধীদের প্রতি বার্তা: মোদী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার বদ্ধপরিকর। বিরোধীদের প্রতি তাঁর সতর্কবার্তা— “যাঁরা এই অধিকার দেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন, দেশের নারীশক্তি তাঁদের ক্ষমা করবে না। শব্দের কারসাজি (Game with words) ছেড়ে জাতীয় স্বার্থে এই বিলকে সমর্থন করুন।”
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি সরকার এই বিলটিকে দ্রুত কার্যকর করতে চাইছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ এই বিলের সাথে জুড়ে থাকা আসন পুনর্বিন্যাস বা সীমানা নির্ধারণের (Delimitation) শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধীদের সেই আপত্তির জবাবেই আজ সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী।





