শ্রমিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে এবার দুর্গাপুরে শাসকদলের মধ্যে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল। দুর্গাপুর নগর নিগমের দুই প্রাক্তন কাউন্সিলর, দীপেন মাঝি (২৬ নম্বর ওয়ার্ড) এবং দীপঙ্কর লাহা (২৫ নম্বর ওয়ার্ড)-এর অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এবিএল টাউনশিপের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকা।
সংঘর্ষের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি:
গণ্ডগোলের সূত্রপাত: গণ্ডগোলের মূল কারণ ছিল একটি বেসরকারি কারখানায় বহিরাগত শ্রমিক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক।
সংঘর্ষ: রবিবার রাতে দলের কার্যালয়ে এসআইআর (SIR) নিয়ে আলোচনা চলার সময়ই বিতর্ক শুরু হয়। বাঁশ, লাঠি-সোটা এবং ইট নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক মারামারি চলে।
ক্ষয়ক্ষতি: এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের পাঁচজন কর্মী আহত হন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় দলের দুই কর্মীকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ: পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনীকে ঘটনাস্থলে যেতে হয়।
দুই পক্ষের অভিযোগ:
দীপেন মাঝির অভিযোগ: প্রাক্তন কাউন্সিলর দীপেন মাঝি অভিযোগ করেন, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর দীপঙ্কর লাহার অনুগামী রঞ্জিত পণ্ডিতের নেতৃত্বে কয়েকজন বহিরাগতের কারখানায় নিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি এলাকার ছেলেদের কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়ায় তাঁরা প্রতিবাদ করতে গেলে রঞ্জিত পণ্ডিতের লোকজন লাঠি, ইট নিয়ে তাঁদের উপর হামলা চালায়।
রঞ্জিত পণ্ডিতের পালটা অভিযোগ: দীপঙ্কর লাহার অনুগামী রঞ্জিত পণ্ডিতের পালটা অভিযোগ, তাঁরা যখন এসআইআর-এর কাজ করছিলেন, তখনই ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর দীপেন মাঝির লোকজন তাঁদের উপর চড়াও হয়ে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে হামলা চালায় এবং মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়।
বিজেপি ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া:
বিজেপির কটাক্ষ: জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগোচ্ছে, ততই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বাড়ছে। ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব হচ্ছে।”
তৃণমূলের সাফাই: যদিও তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কোর কমিটির সদস্য মানস অধিকারী বিরোধীদের কথায় গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বলেন, “নিয়মিত অন্তর্দ্বন্দ্বের কোনও ব্যাপার নেই। এটি পার্টিগত সমস্যা নয়, ক্লাবগত সমস্যার জেরেই এই ঘটনা বলে শুনেছি।”