দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম আলোচিত কেন্দ্র ফলতায় আজ যেন গণতন্ত্রের এক নবজাগরণ। গত কয়েক বছর ধরে যে জনপদটি ভোট মানেই অশান্তি, রক্তপাত আর হুমকির আতঙ্কে কুঁকড়ে থাকত, সেই ফলতাতেই আজ পুনর্নির্বাচনের দিনে বইছে শান্তির হাওয়া। ২৯ এপ্রিলের সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার পর আজ ভোটারদের চোখেমুখে ভয়ের বদলে ফুটে উঠেছে স্বস্তি আর জয়ের হাসি। স্থানীয়দের কথায়, গত ১০ বছরে এমন অবাধ ও উৎসবমুখর পরিবেশে তারা ভোট দিতে পারেননি।
এদিন সকাল থেকেই ফলতা বিধানসভার ২৮৫টি বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ার মতো। প্রবীণ নাগরিক থেকে শুরু করে তরুণ ভোটার, প্রত্যেকের উপস্থিতিতে বুথ চত্বরগুলো যেন ভোট উৎসবে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে সন্ত্রাসের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের অনুপস্থিতির কারণে। নির্বাচনের আগেই তিনি ‘ওয়াক-ওভার’ দেওয়ার ঘোষণা করে সরে দাঁড়ানোর পর থেকে এলাকার আকাশ থেকে যেন ভয়ের মেঘ কেটে গেছে।
দেবাশিস মাঝি নামের এক ভোটার দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে জানালেন, গত ২৯ এপ্রিল তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তার ভোটার কার্ড। ঘরবাড়ি ভাঙচুর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় তিনি ঘরছাড়া ছিলেন। ৪ মে’র পর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় তিনি এলাকায় ফিরেছেন। আজকের এই দিনটিকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, অংশু মাঝি নামক এক নারী ভোটার অতীতের ভয়াবহ স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, “আগের ভোটে ইভিএমে আঠা ও আতর লাগিয়ে রাখা হতো। বুথ থেকে বের হওয়ার সময় আঙুল শুকিয়ে যারা কারচুপির প্রমাণ দিত, তাদের ওপর চালানো হতো অকথ্য নির্যাতন। আমাদের শ্মশানে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।” আজ সেই আতঙ্কের অবসান হয়েছে। ভোটাররা চাইছেন, ফলতায় এখন উন্নয়নের জোয়ার আসুক, বন্ধ থাকা কারখানাগুলো আবার চালু হোক এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত হোক।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি বুথে পর্যাপ্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্পর্শকাতর বুথগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সিসিটিভি ক্যামেরা ও কুইক রেসপন্স টিমের মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। ফলতা বিধানসভার মোট ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৪৪ জন ভোটারের এই মহামিলনে এখন সব নজর ভোটের হার এবং দিনশেষে জনতার চূড়ান্ত রায়ের দিকে।





