লোকসভা নির্বাচনের মাঝপথেই বড়সড় আইনি লড়াইয়ে জয় পেলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। উস্কানিমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে তাঁর প্রার্থিপদ খারিজের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে যে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সোমবার তা খারিজ করে দিল আদালত। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই পর্যায়ে মামলাটি গ্রহণযোগ্য নয়।
কী ছিল অভিযোগ?
মামলাকারীর দাবি ছিল, গত ৩ এপ্রিল ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র এবং পরবর্তীতে মেদিনীপুরের একাধিক জনসভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছেন। অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, তাঁর ভাষণ নির্বাচনী বিধি (Model Code of Conduct) লঙ্ঘন করেছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। এই কারণ দেখিয়েই তাঁর প্রার্থিপদ বাতিলের জন্য হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল।
আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ
কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় কোনো প্রার্থীর প্রার্থিপদ বাতিলের মতো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রাথমিক এক্তিয়ার নির্বাচন কমিশনের। আদালত এই পর্যায়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে নারাজ। এছাড়া, জনস্বার্থ মামলার মাধ্যমে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিরোধ বা নির্বাচনী স্ক্রুটিনির বিষয়ে হস্তক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ফলে আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়, যা শুভেন্দু অধিকারীর জন্য বড় রাজনৈতিক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক নজরে মামলার প্রেক্ষাপট:
অভিযোগ: ভবানীপুর ও মেদিনীপুরের সভায় আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্য।
দাবি: শুভেন্দু অধিকারীর প্রার্থিপদ খারিজ করা হোক।
আদালতের রায়: জনস্বার্থ মামলাটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে খারিজ।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামীদের মতে, এটি তৃণমূল বা বিরোধী শিবিরের একটি ‘আইনি চক্রান্ত’ ছিল যা আদালতের রায়ে ভেস্তে গেল। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ভোটের এই ব্যস্ত সময়ে হাইকোর্টের এই রায়ে শুভেন্দুর নির্বাচনী প্রচারে যে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এখন আইনি বাধা কাটিয়ে মেদিনীপুর থেকে শুরু করে গোটা রাজ্যেই ঝোড়ো প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন বিরোধী দলনেতা।





