বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদে বড়সড় সাফল্যের মুখ দেখল পুলিশ। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিতে ঝাঁঝরা করার পর খুনিরা কীভাবে পালিয়েছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। এবার সেই রহস্যের জট কাটতে শুরু করেছে। বারাসতের ১১ নম্বর রেলগেটের ধার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি পরিত্যক্ত বাইক, যা খুনিরা পালানোর জন্য ব্যবহার করেছিল বলে একপ্রকার নিশ্চিত তদন্তকারীরা।
বারাসতে তল্লাশি ও বাইক উদ্ধার:
তদন্তকারী সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামের জনবহুল এলাকায় কাজ সেরে ফেরার পথে চন্দ্রনাথের ওপর হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। ঘটনার পর দুষ্কৃতীরা এই বাইকেই বারাসতের দিকে চম্পট দেয়। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে এবং ধরা পড়ার ভয়ে ১১ নম্বর রেলগেটের কাছে একটি নির্জন এলাকায় বাইকটি ফেলে রেখে তারা গা ঢাকা দেয়। এর আগে একটি বাইক ও একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছিল। দ্বিতীয় এই বাইকটি উদ্ধার হওয়াকে গোয়েন্দারা বড় সাফল্য বলে মনে করছেন। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাইকটি থেকে আততায়ীদের আঙুলের ছাপ (Fingerprints) বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক নমুনা পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা খুনিদের শনাক্ত করতে সাহায্য করবে।
উত্তরপ্রদেশে ছড়াল তদন্তের জাল:
ঘটনার গুরুত্ব এবং উদ্ধার হওয়া যানবাহনের সূত্র ধরে এবার ভিন রাজ্যেও পাড়ি দিয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)। তদন্তকারীদের একটি দল ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে পৌঁছেছে বলে খবর। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা হয়তো স্থানীয় স্তরে তৈরি হয়েছে, কিন্তু কাজ হাসিল করতে ভিন রাজ্যের পেশাদার ‘সুপারি কিলার’ বা ভাড়াটে খুনিদের নিয়োগ করা হয়েছিল। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের অপরাধ জগতের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
তদন্তের অগ্রগতি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
এখনও পর্যন্ত এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে কাউকে গ্রেফতার করা না গেলেও, একের পর এক সূত্র পুলিশের হাতে আসায় অপরাধীদের বৃত্তটা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ এবং উদ্ধার হওয়া বাইকের মালিকানা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা—কোন কারণে শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে সরু করে দেওয়া হলো, সেই সত্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে মরিয়া পুলিশ প্রশাসন।





