বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় এক রক্তক্ষয়ী শ্যুটআউটের সাক্ষী থাকল রাজ্য। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘ আট বছরের নির্ভরযোগ্য আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় তাঁর গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরাও গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুদ্ধদেববাবুর শরীরে তিনটি গুলি লেগেছিল—পেটে, কাঁধে ও বুকে। বুধবার রাতেই অস্ত্রোপচার করে তাঁর শরীর থেকে তিনটি গুলি বের করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে আঘাত থাকায় তাঁর অবস্থা এখনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাঁকে আইসিইউ-তে (ICU) রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা কড়া পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল তিন থেকে চারজন পেশাদার আততায়ী। অনুমান করা হচ্ছে, বিকেল থেকেই চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। দোলতলার সাহারা ব্রিজের কাছে বিকেল ৩:৫৭ মিনিট নাগাদ একটি রহস্যময় চারচাকা গাড়ি দেখা গিয়েছিল, যা ঘাতকদের বলেই মনে করা হচ্ছে। দোহাড়িয়ার নির্দিষ্ট স্পটে চারচাকা গাড়ি থেকে নেমে দুষ্কৃতীরা চন্দ্রনাথের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পালানোর জন্য পাশে একটি বাইকও আগে থেকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তনী চন্দ্রনাথ কীভাবে শুভেন্দু অধিকারীর ‘সবচেয়ে ভরসার মানুষ’ হয়ে উঠেছিলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। আট বছরের দীর্ঘ সম্পর্কে তিনি ছিলেন ছায়াসঙ্গীর মতো। এই খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একের পর এক গুলি চালিয়ে যেভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে, তা দেখে নিশ্চিতভাবেই এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘সুপারি কিলিং’ বলে মনে করছে পুলিশ।





