পঞ্চায়েত হোক বা বিধানসভা—ভোটের ময়দান মিটলেও উত্তাপ এক চুলও কমছে না বঙ্গ রাজনীতিতে। এবার সরাসরি সরকারি আধিকারিক এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, যেসব আধিকারিকরা নিয়ম ভেঙে কাজ করছেন, তাঁদের শুধু চাকরি হারানোই নয়, জেলেও যেতে হতে পারে।
কাদের উদ্দেশে এই হুঁশিয়ারি? শুভেন্দু অধিকারী মূলত সেইসব সরকারি আধিকারিকদের (EROs এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিক) নিশানা করেছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় অনিয়ম বা নির্বাচনের সময় শাসকদলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি:
-
ভুয়া ভোটার ও অনিয়ম: ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং মাইক্রো-অবজার্ভারদের সই জাল করার মতো ঘটনায় যে আধিকারিকরা যুক্ত, তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না।
-
সরাসরি আইনি পদক্ষেপ: শুভেন্দু মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত ‘ভদ্র আচরণ’ ত্যাগ করে সোজাসুজি অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করা এবং তাঁদের সাসপেন্ড করা।
নির্বাচন কমিশনকে বার্তা: কমিশনের প্রতি কিছুটা ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভেন্দু বলেন:
“নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ অধিকার আছে সোজাসুজি সাসপেন্ড ও এফআইআর করার। তাঁরা খুব ভদ্র আচরণ করে এই সরকারকে বলেছিল ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু কমিশন নিজে কড়া পদক্ষেপ করেনি। অনেক হয়েছে, এবার সরাসরি অ্যাকশন নেওয়ার সময় এসেছে।”
চাকরি ও জেলের ভয়: বিরোধী দলনেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সমস্ত দুর্নীতির প্রমাণ সামনে আনা হবে। যারা মনে করছেন শাসকদলের ছত্রছায়ায় থেকে পার পেয়ে যাবেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। শুভেন্দুর কথায়, “আইন যখন নিজের পথে চলবে, তখন শুধু চাকরিই যাবে না, জেলের ঘানিও টানতে হবে।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: শুভেন্দুর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় দেখিয়ে শুভেন্দু আসলে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছেন। তবে শুভেন্দুর এই ‘জেল-হুঁশিয়ারি’ আমলা মহলে যে একটা চাপা অস্বস্তি তৈরি করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।