বাংলার শিল্প মানচিত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে চলেছে। হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে গড়ে উঠতে চলেছে আমূলের (Amul) বিশাল এক দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। শিল্পমহলের দাবি, এটি হতে চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্র। এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতি নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
প্রকল্পের খুঁটিনাটি:
বিনিয়োগ: প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগ করছে আমূল।
উৎপাদন ক্ষমতা: প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ কিলোগ্রাম দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
উৎপাদিত পণ্য: প্রাথমিক পর্যায়ে দই (মিষ্টি দই ও টক দই) উৎপাদন শুরু হলেও, পরবর্তীকালে পনির, লস্যি, মাখন ও ঘি-সহ নানা ধরণের দুগ্ধজাত পণ্য তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন এই প্রকল্প তাৎপর্যপূর্ণ? এই কারখানাটি শুধু পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধশিল্পের চেহারা বদলে দেবে না, বরং পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রেও বড় প্রভাব ফেলবে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আমূলের এই উদ্যোগ গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভর করতে এবং স্থানীয় কৃষকদের দুধের সঠিক দাম পাইয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা নেবে। বর্তমানে রাজ্যের ১৪টি জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি মহিলা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমূলের সঙ্গে যুক্ত। এই নতুন প্ল্যান্ট চালু হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: আগামী ১৪ জুন এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। একদিকে যেমন শিল্প বিনিয়োগের বার্তা রয়েছে, অন্যদিকে অমিত শাহের এই সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতিতে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও সহযোগিতার এক নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষত, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমূল কর্তৃপক্ষের বৈঠকের পরই এই প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয়েছে।
বাংলার শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক বিকাশের এই বড় পদক্ষেপটি বাস্তবায়িত হলে, তা মমতা সরকারের শিল্প-বিরোধী ভাবমূর্তি কাটিয়ে উঠতে বড় সহায়ক হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





