রাতের অন্ধকারে যখন গোটা শহর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই চলল নিখুঁত অপারেশন। সাইলেন্ট মোডে আলমারি খুলে সাফ হয়ে গেল লক্ষাধিক টাকা ও ৯ ভরি সোনার গয়না। শিলিগুড়ির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলাপাড়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত। তিন সপ্তাহের রুদ্ধশ্বাস তদন্তের পর এনজেপি থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে কুখ্যাত দুষ্কৃতী দীপক দাস ওরফে ‘ক্ষ্যাপা’কে। যদিও চুরির সামগ্রী উদ্ধারের বিষয়টি এখনও পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ এপ্রিল। শীতলাপাড়ার বাসিন্দা চন্দন সাহা ওইদিন ব্যাংক থেকে একটি বড় অঙ্কের টাকা তুলে বাড়িতে এনেছিলেন। কাউকে দেওয়ার জন্য সেই টাকাটি আলমারিতেই রাখা ছিল। অভিযোগ, কোনোভাবে এই বড় অঙ্কের টাকা বাড়িতে আসার খবর দুষ্কৃতী চক্রের কানে পৌঁছে যায়। এরপর গভীর রাতে পরিবারের সদস্যদের অলক্ষ্যেই বাড়িতে হানা দেয় চোরেরা। আলমারি ভেঙে নগদ ১ লক্ষ টাকারও বেশি এবং প্রায় ৯ ভরি সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতী দল। সকালে ঘুম ভাঙতেই চুরির বিষয়টি নজরে আসায় কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবারটি।
তদন্তে পুলিশের মাস্টারস্ট্রোক
ঘটনার পরই এনজেপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন চন্দন বাবু। তদন্তে নেমে সাদা পোশাকের পুলিশ এলাকাটির একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। দিনের পর দিন সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। সেই সূত্র ধরেই গত রবিবার অভিযান চালিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করে কুখ্যাত দুষ্কৃতী দীপক দাস ওরফে ক্ষ্যাপাকে। পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত চুরির কথা স্বীকার করেছে বলে খবর। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, গ্রেফতারি সম্ভব হলেও চুরি যাওয়া বিপুল অঙ্কের টাকা বা গয়না এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
চক্রের শিকড় কোথায়?
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই চুরির পেছনে কেবল ‘ক্ষ্যাপা’ একাই ছিল না, বরং এর পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্র কাজ করছে। বিশেষ করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আনার খবর কীভাবে বাইরে গেল, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। কোনো ‘ভেতরের লোক’ এই খবরের যোগানদাতা কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত ধৃত অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিয়ে বাকি সামগ্রী উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে এনজেপি থানার পুলিশ। এই ঘটনায় শীতলাপাড়া সংলগ্ন এলাকায় যথেষ্ট আতঙ্ক ছড়িয়েছে।





