নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) বা বিশেষ অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার জেরে শিলিগুড়ি পুরনিগমে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন আতঙ্ক। ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা নাগরিকত্ব প্রমাণের তাগিদে জন্মের শংসাপত্র সংগ্রহের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। অবস্থা এমন যে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০টি করে আবেদন জমা পড়ছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি।
পুরনো নথি খুঁজতে নাভিশ্বাস পুরকর্মীদের আবেদনকারীদের মধ্যে অধিকাংশই বয়স্ক নাগরিক। কেউ ১৯৫৫ সাল, কেউ ১৯৬৮ আবার কেউ ১৯৭১ সালের পুরনো নথির জন্য আবেদন করছেন। অনেকে জীবনে এই প্রথমবার বার্থ সার্টিফিকেট তুলছেন, আবার কেউ পুরনো কাগজ ডিজিটাইজেশন করাতে চাইছেন। ভিন জেলা যেমন জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার বা মালদহ থেকেও বহু মানুষ শিলিগুড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন। কয়েক দশকের পুরনো ফাইল ঘেঁটে এই তথ্য বের করতে গিয়ে কার্যত কালঘাম ছুটছে পুরকর্মীদের।
ইঁদুরের উপদ্রব ও সার্ভার বিভ্রাট ভিড়ের চাপের মাঝেই নতুন বিভ্রাট দেখা দিয়েছে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে। পুরনিগমের জন্ম-মৃত্যু বিভাগে ইঁদুরের উৎপাতে সার্ভারের তার কাটা পড়েছে। এর ফলে দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয় ডিজিটাল শংসাপত্র দেওয়ার কাজ। পুরনিগমের মেয়র পারিষদ অভয়া বসু এই পরিস্থিতির জন্য বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, এসআইআর-এর নামে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করায় সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা হয়ে নথির পিছনে ছুটছেন।