রাজ্যের একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসামাজিক কার্যকলাপের একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। কয়েকদিন আগেই কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে টাকাভর্তি ব্যাগ ও বিলাসবহুল এসি বেডরুমের হদিশ মিলেছিল। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার একটি স্কুল থেকেও উদ্ধার হয়েছিল বিপুল পরিমাণ টাকা ও নেশার সামগ্রী। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র (এসি) কলেজেও একই রকম কলঙ্কিত চিত্র প্রকাশ্যে এল।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা জলপাইগুড়ি এসি কলেজের ছাত্র সংসদের (ইউনিয়ন রুম) ঘরের তালা ভাঙতেই উদ্ধার হলো থরে থরে সাজানো নামী ব্র্যান্ডের বিদেশি মদের বোতল, নেশার সামগ্রী এবং মহিলাদের অন্তর্বাস। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে স্থানীয় মানুষ ও পড়ুয়াদের চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার উপক্রম।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই ইউনিয়ন রুমে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে বলে অভিযোগ ছিল। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) সদস্যরা ওই ঘরের তালা ভাঙেন। দরজা খুলতেই ভেতরে जो দৃশ্য দেখা যায়, তা শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। ঘরের ভেতর এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিল মদের বোতল ও মহিলাদের পোশাক। বিষয়টি জানাজানি হতেই গোটা কলেজ চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে পুরো ঘটনাটি জানানো হয়।
এই ঘটনার জেরে স্বভাবতই কাঠগড়ায় উঠেছে শাসকদলের ছাত্র সংগঠন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP)। বিজেপির দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদের ঘর দখল করে তৃণমূল এই ধরনের নোংরা ও অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া তৈরি করেছে। সাধারণ পড়ুয়াদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করার দায় পুরোপুরি শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের ওপরই বর্তায় বলে বিজেপির অভিযোগ।
যদিও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিযুক্ত ছাত্র সংগঠনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ কিংবা কাঁচরাপাড়ার পর জলপাইগুড়ির এই ঘটনা রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও পরিকাঠামো নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এক মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল। শিক্ষাঙ্গনের অন্দরে এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের ঘটনা প্রমাণ করছে যে, নিরাপত্তার বেড়াজাল কতটা আলগা হয়ে পড়েছে। এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিও জোরালো হচ্ছে।





