রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পার্শ্বশিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তাঁদের জন্য বড়সড় আর্থিক উপহার ঘোষণা করেছেন। ২০১৮ সালের পর এই প্রথমবার বেতন বৃদ্ধির মুখ দেখতে চলেছেন সর্বশিক্ষা মিশনের আওতাভুক্ত পার্শ্বশিক্ষক থেকে শুরু করে শিক্ষাবন্ধুরা।
বাজেট ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে পার্শ্ব-শিক্ষক, শিক্ষা বন্ধু, সহায়িকা এবং ব্যবস্থাপনা কর্মীদের মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হবে। এই বৃদ্ধির ফলে প্রাথমিক স্তরের পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন ১০ হাজার থেকে বেড়ে হচ্ছে ১১ হাজার টাকা। অন্যদিকে, উচ্চ প্রাথমিকের পার্শ্বশিক্ষকরা এখন থেকে ১৪ হাজারের বদলে ১৫ হাজার টাকা করে পাবেন। পিছিয়ে নেই শিক্ষাবন্ধুরাও, তাঁদের বর্তমান ৮ হাজার টাকা ভাতা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৯ হাজার টাকায়।
শুধু বেতন বৃদ্ধিই নয়, তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তার কথা ভেবে এক মানবিক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদি কোনও পার্শ্বশিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীর ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যু হয়, তবে তাঁদের পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেবে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের জন্য নতুন বাজেটে ১১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই পার্শ্বশিক্ষকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সরব হয়েছিলেন। একাধিকবার বিকাশ ভবন অভিযান থেকে শুরু করে অবস্থান বিক্ষোভও করেছেন তাঁরা। তাঁদের মূল অভিযোগ ছিল, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে ২০১৮ সাল থেকে তাঁদের বেতন থমকে রয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘তপ্ত ঘায়ে প্রলেপ’ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। আশাকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রতি এই নজরদান বাজেটে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।