দোল উৎসবের প্রাক্কালে শান্তিপুরের ঐতিহ্যে এবার অশান্তির কালো মেঘ। শান্তিপুরের বিখ্যাত রঙের উৎসবে সামিল হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক। অভিযোগ, উৎসবের সঙ্গে যুক্ত ‘SIR’ বা বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর ৫৫০ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ২০০ জনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩৫০ জন সদস্যকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা। উৎসবের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্তের ফলে শান্তিপুরের রাজপথে এখন রঙের বদলে প্রতিবাদের সুর চড়ছে।
অশান্তির মূলে কী? শান্তিপুরের দোল এবং রাস উৎসবের একটি বিশেষ অঙ্গ হলো এই ‘SIR’ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। বছরের পর বছর ধরে তাঁরাই উৎসবের শৃঙ্খলা বজায় রাখেন। কিন্তু এবার প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ৩৫০ জন সদস্যকে ব্রাত্য ঘোষণা করা হয়েছে। বাদ পড়া সদস্যদের দাবি, তাঁরা বংশপরম্পরায় এই কাজ করে আসছেন। কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই তাঁদের নাম কেন তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
বিক্ষোভ ও দাবি বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শান্তিপুরের বিভিন্ন মোড়ে বাদ পড়া সদস্যরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, নতুন তালিকায় স্বজনপোষণ করা হয়েছে এবং যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। “৫৫০ জনের মধ্যে ৩৫০ জনকে বাদ দিলে উৎসবের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে,”—এমনটাই আশঙ্কা করছেন প্রবীণ সদস্যরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, উৎসব কমিটি এবং স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।
প্রশাসনের ভূমিকা অন্যদিকে, আয়োজকদের একাংশের দাবি, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলার খাতিরেই সদস্য সংখ্যা সীমিত করা হয়েছে। তবে ৩৫০ জন সদস্যকে একসঙ্গে বাদ দেওয়ার যুক্তি মানতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। শান্তিপুরের শান্ত পরিবেশ যাতে উৎসবের আগে উত্তপ্ত না হয়, তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। এখন দেখার, শেষ মুহূর্তে এই ৩৫০ জন সদস্যকে উৎসবে ফেরানো হয় কি না, নাকি এই ‘অশান্তির কাঁটা’ নিয়েই পালিত হবে শান্তিপুরের দোল।