বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শান্তিনিকেতনের কোল ঘেঁষেই যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি এমন ভয়ঙ্করভাবে লুকিয়ে রয়েছে, তা ঘূর্ণাক্ষরেও টের পায়নি কেউ। শনিবার বীরভূমের বোলপুরে উদ্ধার হওয়া এক বিশালকার ‘জ্যান্ত’ মর্টার শেল নিষ্ক্রিয় করল ভারতীয় সেনাবাহিনী। বিকট বিস্ফোরণের শব্দে এদিন কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা।
ঘটনার সূত্রপাত: কয়েকদিন আগে বোলপুরের একটি পরিত্যক্ত এলাকায় খননকার্যের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা অদ্ভুত দেখতে একটি লোহার বস্তু দেখতে পান। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহে জানা যায় এটি একটি শক্তিশালী মর্টার শেল। বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় পানাগড় মিলিটারি ক্যাম্পের বিশেষজ্ঞ দলকে।
সেনাবাহিনীর মেগা অপারেশন: শনিবার সকালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বোম স্কোয়াড ও ইঞ্জিনিয়ারিং কোর বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে মর্টার শেলটি পরীক্ষা করে দেখেন। তাঁরা নিশ্চিত করেন যে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের একটি সক্রিয় বা ‘জ্যান্ত’ মর্টার শেল। বছরের পর বছর মাটির তলায় পড়ে থাকলেও এর ভেতরে থাকা বারুদ যেকোনো সময় বড়সড় বিপর্যয় ঘটাতে পারত।
-
নিরাপত্তা বেষ্টনী: নিষ্ক্রিয় করার আগে গোটা এলাকা জনশূন্য করে দেয় পুলিশ। প্রায় ৫শ মিটার এলাকা জুড়ে কড়া পাহারা বসানো হয়।
-
কন্ট্রোলড ব্লাস্ট: খোলা মাঠের ভেতর গভীর গর্ত খুঁড়ে বালির বস্তা দিয়ে চাপা দিয়ে ‘কন্ট্রোলড ব্লাস্ট’-এর মাধ্যমে শেলটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আওয়াজ পৌঁছায়।
কেন বোলপুরে এই মর্টার? ইতিহাসবিদদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বীরভূমের এই চত্বর এবং সংলগ্ন দুর্গাপুর-পানাগড় এলাকায় ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর একাধিক এয়ারবেস ছিল। সম্ভবত সেই সময়েই কোনো সামরিক মহড়া বা জরুরি পরিস্থিতিতে এই মর্টারটি এখানে চাপা পড়ে গিয়েছিল।
দীর্ঘ কয়েক দশক পর মাটির তলার এই মরণফাঁদ থেকে মুক্তি পেয়ে আপাতত স্বস্তিতে বোলপুরবাসী। তবে মাটির তলায় এমন আরও কোনো বিস্ফোরক লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা নিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।