একজন মহিলার জীবনে মেনোপজ বা ঋতুনিবৃত্তি একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। কিন্তু আমাদের দেশে এই বিষয়ে সচেতনতার এতটাই অভাব যে, অনেক সময় মহিলারা দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হন। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, মেনোপজের লক্ষণগুলোকে সাধারণ বার্ধক্য বা ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাওয়াটা হতে পারে মস্ত বড় ভুল।
কেন বাড়ছে ঝুঁকি? মেনোপজ মানে কেবল পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়, এটি শরীরে হরমোনের এক বিরাট ওলটপালট। সচেতনতার অভাবে মহিলারা নিম্নলিখিত সমস্যার সম্মুখীন হন:
হাড়ের ক্ষয়: হরমোনের অভাবে হাড় দ্রুত ভঙ্গুর হয়ে যায় (অস্টিওপোরোসিস)।
হৃদরোগের আশঙ্কা: মেনোপজের পর মহিলাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
মানসিক বিপর্যয়: উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ এবং গভীর বিষণ্নতা (Depression) গ্রাস করে অনেককেই।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব মেনোপজের প্রভাবে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে। ফলে হুটহাট কান্না পাওয়া, ঘুম না হওয়া বা নিজেকে একা মনে করার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় পরিবারও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
যা জানা আপনার জন্য জরুরি: ১. লক্ষণ চিনুন: হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়া (Hot Flashes), অতিরিক্ত ঘাম এবং মেজাজের পরিবর্তন মেনোপজের আগাম সংকেত। ২. খাদ্যাভ্যাস: ডায়েটে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার বাড়াতে হবে। ৩. চিকিৎসকের পরামর্শ: সমস্যা বেশি হলে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT) বা কাউন্সেলিং-এর সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না।
বিশেষজ্ঞের মত: “মেনোপজ কোনো রোগ নয়, এটি জীবনের একটি নতুন পর্যায়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবারের সমর্থন থাকলে এই সময়টা অনায়াসেই কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব।”





