শপিং মল থেকে মুদির দোকান—সবাই কেন বাদামি রঙের কাগজের ব্যাগই দিচ্ছে? রয়েছে ৩টি আসল রহস্য

বর্তমান সময়ে প্লাস্টিক বর্জনের লড়ায়ে আমাদের পরম বন্ধু হয়ে দাঁড়িয়েছে কাগজের ব্যাগ। ছোট মুদির দোকান হোক বা নামী দামী শপিং মল—সব জায়গাতেই জিনিসের প্যাকেট হিসেবে বাদামি রঙের কাগজের ব্যাগ বা ‘ব্রাউন পেপার ব্যাগ’-এর আধিপত্য। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, এই ব্যাগের রঙ অন্য কোনও উজ্জ্বল রঙের না হয়ে সবসময় ম্যাড়মেড়ে বাদামি কেন হয়? এর পিছনে লুকিয়ে আছে সাশ্রয় এবং বিজ্ঞানের চমকপ্রদ কিছু কারণ।

১. রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য পদ্ধতি: এই বাদামি ব্যাগগুলি মূলত তৈরি হয় পুরনো কার্ডবোর্ড এবং ব্যবহৃত কাগজ রিসাইকেল করে। বিভিন্ন ধরণের কাগজ যখন একসঙ্গে মিশিয়ে মণ্ড তৈরি করা হয়, তখন তাতে প্রাকৃতিকভাবেই একটি বাদামি আভা তৈরি হয়। এটি কাগজের নিজস্ব বা অরিজিনাল রঙ।

২. ব্লিচিং খরচ ও পরিবেশ রক্ষা: কাগজকে ধবধবে সাদা করতে গেলে তাতে রাসায়নিক ‘ব্লিচ’ ব্যবহার করতে হয়। এই ব্লিচিং পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। যেহেতু প্যাকিং ব্যাগ বা পণ্য বহনের ব্যাগগুলি খুব বেশি শৌখিন করার প্রয়োজন হয় না, তাই খরচ কমাতে কোম্পানিগুলি ব্লিচিং এড়িয়ে চলে। এতে ব্যাগের উৎপাদন খরচ যেমন কমে, তেমনই রাসায়নিক ব্যবহার না হওয়ায় এটি পরিবেশের জন্য বেশি নিরাপদ।

৩. শক্তি ও সহনক্ষমতা: সবথেকে বড় কারণ হলো মজবুত হওয়া। রাসায়নিক ব্লিচ ব্যবহার করলে কাগজের তন্তু বা ফাইবারগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে কাগজ পাতলা হয়ে যায় এবং সহজেই ছিঁড়ে যেতে পারে। কিন্তু বাদামি কাগজ ব্লিচ করা হয় না বলে এর তন্তুগুলি অনেক বেশি শক্ত ও সুসংগঠিত থাকে। ফলে এটি ভারী জিনিসের ভার অনায়াসে সহ্য করতে পারে।

৪. সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব: বাদামি কাগজের ব্যাগ তৈরিতে বাড়তি প্রিন্টিং বা রঙের খরচ লাগে না, যা ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীদের কাছে সাশ্রয়ী। পাশাপাশি প্লাস্টিকের মতো এটি পরিবেশের ক্ষতি করে না। মাটিতে ফেললে খুব দ্রুত এটি পচে মিশে যায়। সাশ্রয়, শক্তি এবং পরিবেশ রক্ষা—এই তিনের সংমিশ্রণেই বাদামি কাগজের ব্যাগ আজ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy