কর্ণাটকে কংগ্রেস সরকার গঠনের ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বড়সড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। বুধবার লোকভবনে শপথগ্রহণের পর নতুন মন্ত্রিসভার কাজ শুরু হতেই আচমকা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রামালিঙ্গা রেড্ডি। আটবারের এই অভিজ্ঞ বিধায়কের মন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত দফতর বণ্টনকে কেন্দ্র করে। প্রবীণ নেতা রামালিঙ্গা রেড্ডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি ‘বেঙ্গালুরু নগর উন্নয়ন’ দফতরটি পাবেন। কিন্তু মন্ত্রিসভা গঠনের সময় তাঁকে দেওয়া হয় ‘সেচ’ বা জলসম্পদ দফতর। এই সিদ্ধান্তের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রেড্ডি। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করে অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সিদ্দারামাইয়ার মন্ত্রিসভায় ‘বেঙ্গালুরু নগর উন্নয়ন’ দফতরটি ছিল খোদ ডিকে শিবকুমারের হাতে।
রামালিঙ্গা রেড্ডি জানিয়েছেন, তিনি সশরীরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দিতে চাননি। পরিবর্তে, ব্যক্তিগত সচিবের মাধ্যমে তা পাঠিয়ে দিয়েছেন। নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে রেড্ডি বলেন, “২০২৩ সালে আমাকে দুবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, আড়াই বছর পর অর্থাৎ ২০২৬ সালে যখন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পরিবর্তন হবে বা নতুন বিন্যাস হবে, তখন আমাকে বেঙ্গালুরু উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর দেওয়া হবে। কিন্তু আমাকে সেই দফতর না দিয়ে বারবার অপমান করা হয়েছে। এই সম্মানহানি আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। মন্ত্রী পদে বহাল থাকা আমার বিবেকের বিরুদ্ধে।”
তবে মন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করলেও কংগ্রেস দল ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি রেড্ডি। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যদি তাঁকে কাঙ্ক্ষিত দফতর দেওয়াও হয়, তবুও তিনি আর মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করবেন না। একজন বিধায়ক হিসেবেই তিনি নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রের কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার, সিদ্দারামাইয়া কিংবা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ নেই, তবে নিজের প্রাপ্য সম্মান না পাওয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নতুন সরকার গঠনের অব্যবহিত পরেই এই পদত্যাগ কংগ্রেস হাইকমান্ডের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিকে শিবকুমারের জন্য এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এখন সবথেকে বড় মাথাব্যথা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভার প্রথম দিনেই এই ধরণের বিদ্রোহ কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে ফের প্রকাশ্যে নিয়ে এল। এখন দেখার বিষয়, কংগ্রেস নেতৃত্ব এই প্রবীণ নেতাকে মানানোর চেষ্টা করে কি না, নাকি মন্ত্রিসভার এই রদবদল নিয়ে আরও বড় কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়।





