শপথের ৪৮ ঘণ্টাতেই ‘থালাপতি’ ম্যাজিক! কথা রাখলেন বিজয়, এক ধাক্কায় বন্ধ হচ্ছে ৭১৭টি মদের দোকান

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে কার্যত ভূমিকম্প ঘটিয়ে দিলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া সি জোসেফ বিজয়। নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া ‘মাদক-মুক্ত তামিলনাড়ু’ গড়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে মঙ্গলবারই ৭১৭টি সরকারি (TASMAC) খুচরো মদের দোকান বন্ধ করার ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছে তাঁর সরকার। বুধবার বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের ঠিক আগের দিন বিজয়ের এই মাস্টারস্ট্রোককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রতিশ্রুতি পালনে অবিচল বিজয়
গত রবিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজয়। তাঁর নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেটরি কঝগম’ (TVK) বিধানসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব ফল করে ১০৮টি আসন পায় এবং জোটসঙ্গীদের সমর্থনে ম্যাজিক ফিগার ১১৮ স্পর্শ করে। ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মানোন্নয়নের লক্ষে বিজয় প্রথম থেকেই স্পষ্ট করেছিলেন যে, মদের দোকানের বাড়বাড়ন্ত তিনি বরদাস্ত করবেন না। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষায় তাঁর সরকার যে আপসহীন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি সেই বার্তাই দিলেন।

কোথায় কোথায় নামছে খাঁড়া?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম দফায় সেই সমস্ত দোকানগুলিকে টার্গেট করা হয়েছে যেগুলি স্কুল, মন্দির বা বাস স্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত। সরকারি তথ্য বলছে:

ধর্মীয় স্থান বা মন্দিরের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা ২৭৬টি দোকান।

স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে থাকা ১৮৬টি দোকান।

বাস স্ট্যান্ডের মতো জনবহুল এলাকার কাছে থাকা ২৫৫টি দোকান।
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই মোট ৭১৭টি দোকান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন।

বিস্তারিত অডিটের পর সিদ্ধান্ত
বর্তমানে তামিলনাড়ু জুড়ে মোট ৪,৭৬৫টি TASMAC পরিচালিত মদের দোকান রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর প্রথম ফাইল হিসেবে বিজয় এই দোকানগুলির একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ সমীক্ষা বা অডিটের নির্দেশ দেন। কোন দোকানগুলি জননিরাপত্তা বা সামাজিক পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক, সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিলমোহর দেন তিনি। প্রশাসনের এক পদস্থ আধিকারিকের মতে, “মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজস্বের চেয়ে জনস্বাস্থ্য এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অনেক বেশি মূল্যবান।”

রাজ্যজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছে রাজ্যের মহিলা সংগঠনগুলি। তাঁদের মতে, মন্দির ও স্কুলের কাছ থেকে মদের দোকান সরে গেলে সামাজিক পরিবেশ শান্ত হবে এবং অপরাধ প্রবণতা কমবে। তবে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন রাজস্বের ঘাটতি নিয়ে। তাঁদের দাবি, TASMAC রাজ্যের আয়ের অন্যতম বড় উৎস, হঠাৎ এত দোকান বন্ধ হলে উন্নয়নের কাজে অর্থের টান পড়বে না তো? যদিও বিজয়ের অনুগামীরা বলছেন, ‘থালাপতি’ যখন কথা দিয়েছেন, তখন বিকল্প আয়ের উৎসও তিনি ঠিক করে রেখেছেন। আপাতত বিজয়ের এই সাহসী সিদ্ধান্ত ডেইল হান্টের পাঠকদের মধ্যে তো বটেই, গোটা দেশের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy