দক্ষিণ লেবাননের হাসবায়া এলাকায় একটি গেস্ট হাউসে ইজরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। নিহতরা আল-মায়াদিন (Al-Mayadeen) এবং আল-মানার (Al-Manar) সংবাদ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন সাংবাদিকরা একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করছিলেন এবং তাদের পরিচয় স্পষ্টভাবে ‘PRESS’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। ফলে এই হামলা কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি মুখ বন্ধ করার জন্য সুপরিকল্পিত ‘টার্গেট কিলিং’, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি: হামলাটি যখন হয়, তখন সাংবাদিকরা ঘুমের মধ্যে ছিলেন। হাসবায়ার ওই গেস্ট হাউসটিতে ১৮ জন সাংবাদিক অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, হামলার আগে সেখানে কোনো সংঘর্ষ চলছিল না। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ক্যামেরা অপারেটর গাসান নাজার, টেকনিশিয়ান মোহাম্মদ রেদা এবং ক্যামেরাম্যান উইসাম কাসিম। সংবাদ সংস্থাগুলির দাবি, ইজরায়েলি বাহিনী জানত যে ওই ভবনটিতে সাংবাদিকরা রয়েছেন, কারণ এলাকাটি রণক্ষেত্রের বাইরে একটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছিল।
ইজরায়েলের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) সাধারণত দাবি করে যে তারা হিজবুল্লাহর পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে সাংবাদিকদের ওপর এই হামলার বিষয়ে তারা এখনও কোনো সদুত্তর দেয়নি। অন্যদিকে, লেবাননের তথ্যমন্ত্রী এই ঘটনাকে “যুদ্ধাপরাধ” বলে অভিহিত করেছেন। ইউনেস্কো এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বারবার সতর্ক করেছে যে, সংঘাতের সময় সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় বাধ্যতামূলক।
সংবাদমাধ্যমের ওপর বাড়তি চাপ: গত এক বছরে গাজা এবং লেবাননে রেকর্ড সংখ্যক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের সংগঠনগুলির মতে, এটি বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা। যদি সাংবাদিকদের ওপর হামলা এভাবে চলতে থাকে, তবে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রকৃত সত্য বিশ্বের সামনে আসা বন্ধ হয়ে যাবে। এই হামলার প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন প্রেস ক্লাব এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।