লাল ভেবে বিষ কিনছেন না তো? মিষ্টি ও পাকা তরমুজ চেনার ৩টি গোপন টেকনিক, যা ঠকতে দেবে না আপনাকে!

চৈত্রের দাবদাহ আর প্যাচপ্যাচে গরমে এক ফালি ঠান্ডা ও রসালো তরমুজ যেন অমৃতের সমান। শরীরে জলের ঘাটতি মেটাতে আর মনকে শান্ত করতে তরমুজের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু বিপত্তি বাধে তখনই, যখন বাজার থেকে লাল দেখে কিনে আনার পর বাড়িতে কেটে দেখা যায় সেটি ফ্যাকাশে বা পানসে।

পকেটের টাকা খরচ করে বাজার থেকে সেরা ‘লাল টুকটুকে’ এবং মিষ্টি তরমুজটিই যাতে বাড়ি আনতে পারেন, তার জন্য রইল বিশেষজ্ঞ নির্দেশিত কয়েকটি সহজ টিপস:

১. হলদেটে দাগ বা ‘ফিল্ড স্পট’ লক্ষ্য করুন: তরমুজের গায়ে একদিকের অংশ কিছুটা ফ্যাকাসে বা হলুদ রঙের হয়। একে বলা হয় ‘ফিল্ড স্পট’। তরমুজটি গাছে থাকাকালীন মাটির সাথে লেগে থাকা অংশ এটি। যদি এই দাগটি গাঢ় হলুদ বা কমলাটে হয়, তবে বুঝবেন তরমুজটি ঠিকঠাক পেকেছে। সাদাটে বা সবুজ দাগ মানে সেটি এখনও অপরিপক্ক।

২. শব্দ শুনে পরখ করুন: তরমুজটি হাতে নিয়ে আলতো করে টোকা দিন। যদি শব্দটা ভারি বা নিরেট হয়, তবে বুঝবেন ভেতরে রস ভরপুর এবং সেটি পাকা। আর যদি একদম ফাঁপা বা খুব পাতলা শব্দ হয়, তবে সেটি এড়িয়ে চলাই ভালো।

৩. বোঁটা দেখে চেনার উপায়: তরমুজটি যেখান থেকে গাছ বা লতার সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেই বোঁটার অংশটি ভালো করে দেখুন। বোঁটা যদি শুকনো এবং বাদামি রঙের হয়, তবে বুঝবেন সেটি পুরোপুরি পেকে যাওয়ার পরেই গাছ থেকে তোলা হয়েছে। কাঁচা বা সবুজ বোঁটা মানেই সেটি অপরিপক্ক অবস্থায় পেড়ে নেওয়া হয়েছে।

৪. ওজন ও আকার: পাকা তরমুজ সবসময় ওজনে ভারি হয়। একই সাইজের দুটি তরমুজ হাতে নিয়ে দেখুন, যেটি বেশি ভারি মনে হবে সেটিই বেশি রসালো। এছাড়া খুব বেশি বড় বা আঁকাবাঁকা তরমুজের চেয়ে মাঝারি আকারের সুষম গোল বা ডিম্বাকৃতি তরমুজ বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

সতর্কবার্তা: আজকাল অনেক সময় কৃত্রিম রঙ ইনজেক্ট করে তরমুজ লাল করা হয়। তাই কাটার পর যদি তরমুজের মাঝখানে গভীর ফাটল বা অতিরিক্ত গাঢ় লাল রঙ দেখেন, তবে সতর্ক থাকুন। প্রাকৃতিক উপায়ে পাকা তরমুজের স্বাদ ও স্বাস্থ্যগুণ বজায় থাকে শতভাগ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy