রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। সোমবার খড়্গপুরে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, রাজ্যের উন্নয়নের টাকা নিয়ে তৃণমূলের লোকেরা মুনাফা লুটছে, অথচ রাজ্য সরকার দেনার দায়ে জর্জরিত।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “রাজ্যের উন্নয়ন থমকে গিয়েছে। কারণ তৃণমূল সরকার মুনাফাখোরে পরিণত হয়েছে। বর্ষার পর রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। কিন্তু দেউলিয়া সরকারের কাছে তা সারানোর অর্থ নেই।” তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে, “লাভের গুড় তৃণমূলের লোকেরা খাচ্ছে,” আর রাজ্যের মানুষ তার ফল ভোগ করছে।
গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে সংঘাত:
অন্যদিকে, গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মুখ্যমন্ত্রী মমতার চিঠি দেওয়া নিয়েও এদিন দিলীপ ঘোষ কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “কেন্দ্র সরকারকে তাঁদের নিজেদের কাজ করতে দেওয়া উচিৎ। সব জায়গায় রাজনীতি করা উচিৎ নয়।”
মমতার চিঠিতে কী ছিল?
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দার্জিলিং, ডুয়ার্স এবং তরাই অঞ্চলে গোর্খা ইস্যুতে কেন্দ্রের মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে আপত্তি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্র সরকারের এই পদক্ষেপকে তিনি ‘একতরফা’ বলে উল্লেখ করেন।
মমতা চিঠিতে জানিয়েছিলেন যে, প্রাক্তন উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পঙ্কজ কুমার সিং-কে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করা ‘একতরফা সিদ্ধান্ত’। তিনি মনে করিয়ে দেন যে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্ত একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং এটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল। তাই গোর্খা সম্প্রদায় বা জিটিএ অঞ্চল সম্পর্কিত যেকোনো সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত।
এই পরিস্থিতিতে দিলীপ ঘোষের পাল্টা আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।