শনিবার সকালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক উদ্বেগজনক অথচ স্বস্তিদায়ক খবর সামনে এল। লাদাখের টাংস্টের পার্বত্য এলাকায় ভেঙে পড়েছে ভারতীয় সেনার একটি ‘চিতা’ হেলিকপ্টার। গত বুধবার এই দুর্ঘটনাটি ঘটলেও তিন দিন পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কপ্টারে থাকা তিনজন সেনা কর্মকর্তা অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন।
সেনা সূত্রে খবর, ওই সিঙ্গেল-ইঞ্জিন চিতা কপ্টারটিতে ছিলেন এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল, একজন মেজর এবং ৩ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের এক জেনারেল অফিসার কমান্ডিং। বুধবার ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই কপ্টারটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আছড়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হেলিকপ্টারটি যে বিধ্বস্ত অবস্থায় ভেঙে পড়েছে, সেখান থেকে তিন সেনা কর্মকর্তার জীবিত উদ্ধার হওয়া ‘অলৌকিক’ ঘটনার চেয়ে কম কিছু নয়। তাঁদের শরীরে সামান্য আঘাত থাকলেও তাঁরা এখন বিপদমুক্ত বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পরই সেনাবাহিনী তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পরই ভারতীয় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বহরের আধুনিকীকরণ নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, সেনার আর্মি অ্যাভিয়েশন কোরের বৃহত্তর আধুনিকীকরণ প্রকল্পের আওতায়, আগামী দুই বছরের মধ্যেই পুরোনো হেলিকপ্টারগুলোকে বাতিলের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে সেনাবাহিনীর লক্ষ্য আগামী আট থেকে দশ বছরের মধ্যে প্রায় ২৫০টি অত্যাধুনিক ‘লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার’ অন্তর্ভুক্ত করা।
উল্লেখ্য যে, ভারতীয় সেনার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী এই ‘চিতা’ ও ‘চেতক’ হেলিকপ্টার দুটি। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে তৈরি এই কপ্টারগুলি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বিপর্যয়—প্রতিটি ক্ষেত্রেই অসামান্য ভূমিকা পালন করেছে। তবে সময়ের প্রয়োজনে এবং প্রযুক্তির আধুনিকায়নের অভাবে এগুলির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (এইচএএল) একসময় লাইসেন্সের অধীনে ৬২৫টি চিতা ও চেতক তৈরি করলেও, বর্তমানে এগুলির উৎপাদন বন্ধ। শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজই অবশিষ্ট রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধকৌশল এবং পাহাড়ি এলাকার প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এই পুরোনো কপ্টারগুলি এখন কার্যত ‘বৃদ্ধ’। তাই সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে চিতা ও চেতককে দ্রুত অবসর দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে সেনা। আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত নতুন হেলিকপ্টারের প্রয়োজনীয়তা এই দুর্ঘটনার পর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমেই পরিষ্কার হবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটল, আর কত দ্রুত নতুন হেলিকপ্টার সেনার বহরে যুক্ত করা সম্ভব হয়। আপাতত, তিন কর্মকর্তার সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষাতেই রয়েছেন দেশবাসী।





