ভারতে বড়সড় নাশকতার ছক এবং লস্কর-ই-তৈবার হয়ে জঙ্গি রিক্রুটমেন্টের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত সৈয়দ মহম্মদ ইদ্রিশকে কঠোর সাজা শোনাল আদালত। বুধবার ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র বিশেষ আদালত ইদ্রিশকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৭০,০০০ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলিম যুবকদের মগজধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ানোর মস্টারমাইন্ড ছিল এই ইদ্রিশ।
মুম্বাই-জয়পুরে হামলার পরিকল্পনা তদন্তে জানা গিয়েছে, ইদ্রিশের নিশানায় ছিল মুম্বাইয়ের হাজি আলি দরবার এবং জয়পুরের একাধিক মন্দির। জম্মু-কাশ্মীর থেকে অস্ত্র আনিয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটানোর নীল নকশা তৈরি করেছিল সে। ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই এবং নাশকতার প্রমাণ উদ্ধার করেছিলেন গোয়েন্দারা। মূলত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে সে যুবকদের উস্কানি দিয়ে পাকিস্তানে পাঠানোর কাজ করত।
তানিয়া পারভিনের সঙ্গে যোগসূত্র ইদ্রিশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বাদুড়িয়ার বাসিন্দা কুখ্যাত লস্কর জঙ্গি তানিয়া পারভিনের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তানিয়া পারভিনও এই একই মডিউলের অংশ হিসেবে যুবকদের মৌলবাদে দীক্ষিত করার কাজ করত। তানিয়া ও ইদ্রিশ মিলে দেশের যুব সমাজকে বিপথে চালিত করার একটি বড় চক্র গড়ে তুলেছিল। ইদ্রিশের সহযোগী আতলাফ আহমেদ রাঠেরকেও জম্মু-কাশ্মীর থেকে গ্রেপ্তার করেছিল এনআইএ।
ফেরারি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস এদিন ইদ্রিশকে সাজা শোনানোর পাশাপাশি আরও দুই পাকিস্তানি জঙ্গির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে এনআইএ। ফেরারি জঙ্গি আয়েশা বুরহান ওরফে আয়েশা সিদ্দিকি এবং বিলাল দুরানির বিরুদ্ধে যথাক্রমে রেড কর্নার এবং ব্লু কর্নার নোটিস জারি করা হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টায় যারা লিপ্ত, তাদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না বলে বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।