রাজ্যের সরকারি প্রকল্প নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক নির্দেশে রাজ্য জুড়ে হইচই পড়ে গেছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় বিশাল বড়সড় জালিয়াতি ধরা পড়েছে। তথ্য যাচাইয়ের পর দেখা গেছে, প্রায় ৩০ লক্ষ নাম এমন রয়েছে যারা এই প্রকল্পের যোগ্য নন অথবা যাদের তথ্য সম্পূর্ণ ভুয়ো বা ‘বেনোজল’।
এই বিপুল পরিমাণ গরমিল মেটাতেই মুখ্যমন্ত্রী একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন ২০২৬ থেকে পুরনো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পটি সরকারিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর পরিবর্তে রাজ্যে চালু করা হবে নতুন এবং আরও স্বচ্ছ ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। প্রশাসনিক মহলের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নামে যে বেনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছিল, তা নির্মূল করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনের দাবি, পুরনো প্রকল্পে অনেকের নামই ডুপ্লিকেট ছিল, আবার অনেকে একাধিকবার সুযোগ সুবিধা নিচ্ছিলেন। নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে এই ছিদ্রগুলো বন্ধ করার জন্য সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। শুধুমাত্র যারা প্রকৃত অর্থে গরিব এবং সরকারি সহায়তার যোগ্য, তাদেরই সরাসরি অ্যাকাউন্টে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। নতুন প্রকল্পের রূপরেখা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভোটের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের করের টাকা যাতে অপচয় না হয়, সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। আগামী ১ জুন থেকে কীভাবে এই নতুন প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে হবে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা শীঘ্রই প্রতিটি জেলায় পাঠানো হবে বলে নবান্ন সূত্রের খবর। সরকারের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থের অপচয় কমবে, অন্যদিকে প্রকৃত উপভোক্তারা তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হবেন না। তবে এই সিদ্ধান্তের পর রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধী শিবির কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





