লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ কেন? ৭০০০ মহিলার প্রশ্নে কাঁপছে নবান্ন, হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে তোলপাড়!

রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে এবার চরম অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার। গত পাঁচ মাস ধরে টাকা না পেয়ে শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন কয়েক হাজার মহিলা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নার ৭০০০ মহিলার করা এই মামলায় বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারকে কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন এই বিপুল সংখ্যক উপভোক্তা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তার কারণ জানতে চেয়েছে আদালত।

আদালতের প্রশ্ন ও কড়া নির্দেশ: বৃহস্পতিবার বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়। মামলাকারীদের পক্ষ থেকে আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনেন। তিনি জানান, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভার বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৭ হাজার মহিলা গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না। কেন হঠাৎ করে এই বিপুল সংখ্যক মহিলার টাকা বন্ধ করে দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ: মামলাকারীদের আইনজীবীর দাবি, বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতটি বিজেপি পরিচালিত। মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই জেলা শাসকের মাধ্যমে পাঠানো টাকা এই পঞ্চায়েতে আটকে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ৭০০০ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো বন্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানান যে, সংশ্লিষ্ট এলাকার নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলার কারণেই টাকা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।

বঞ্চনার ছবি ময়নায়: ময়নার এই ৭০০০ মহিলার অভিযোগ, তারা বারবার সরকারি আধিকারিকদের দরজায় কড়া নেড়েও কোনো সুরাহা পাননি। সংসার চালানোর জন্য সামান্য এই আর্থিক সাহায্যের ওপর অনেকেই নির্ভরশীল। পাঁচ মাস ধরে টাকা না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন তারা। এখন দেখার, আদালতের হস্তক্ষেপে এবং আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে নবান্ন কী রিপোর্ট জমা দেয় এবং এই মহিলারা তাঁদের প্রাপ্য টাকা ফিরে পান কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy