‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর জবাবে ‘আড়াই হাজারি স্কিম’! বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাসে ₹২৫০০, ৫০০ টাকায় গ্যাস: ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর

আসন্ন ভোটের আগে ফের একবার প্রতিশ্রুতির পাল্টাপাল্টি লড়াই শুরু হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সাফল্যের ফর্মুলাকে টক্কর দিতে এবার বিজেপি নিয়ে আসছে ‘আড়াই হাজারি স্কিম’। শুক্রবার এই ঘোষণা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মহিলাদের জন্য একগুচ্ছ বড় প্রতিশ্রুতির ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, বিজেপি সরকার গঠনের পর বাংলাতেও প্রকাশিত হবে ‘সংকল্প পত্র’। সেই ‘সংকল্প পত্র’ হাতে নিয়ে তাঁরা সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাবেন।

বিজেপির প্রধান চারটি প্রতিশ্রুতি
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দিল্লিতে যেমন ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করা হয়েছিল, এবার বাংলার জন্যও সেই নথি প্রকাশ করা হবে। বিজেপির চারটি প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো:

১. আড়াই হাজারি স্কিম: রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে পাবেন আড়াই হাজার টাকা। ২. রান্নার গ্যাস: রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার মিলবে মাত্র ৫০০ টাকায়। ৩. ফ্রি যাতায়াত: সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য থাকবে বিনামূল্যে যাতায়াত। ৪. স্বাস্থ্য সুবিধা: আয়ুষ্মান ভারতে দশ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা।

এছাড়াও শুভেন্দু দাবি করেন, মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক যতদিন চাকরি না পাচ্ছেন, মহারাষ্ট্রের মতো বাংলাতেও এনডিএ সরকার প্রতি মাসে চার হাজার টাকা বেকার ভাতা দেবে।

তৃণমূলের কটাক্ষ: ‘খয়রাতির রাজনীতি’
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বিজেপির এই ঘোষণাকে ‘ভোটের আগে খয়রাতির রাজনীতি’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এরা ভোটের আগে অনেক কিছু বলে, কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে কিছুই দেয় না। মুম্বই, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিছুই পূরণ করেনি। আমরা যা বলি, তাই করি। আমরা কখনও কথার খেলাপ করি না।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আমরা শুধু বাংলায় নয়, সারা পৃথিবীতে প্রথম চালু করেছি। আর এটা সারাজীবন চলবে।”

তবে শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা বক্তব্য, “সব দলই খয়রাতির রাজনীতি করে, কিন্তু নিজেরা দিলে বলে কল্যাণ, আর বিরোধী দিলে বলে খয়রাতি—এটাই রাজনীতির প্রহসন।” তিনি ছত্তীসগঢ়ের মাহাতারি যোজনা ও মধ্যপ্রদেশের ‘লাডলি বহেন’ প্রকল্পের উদাহরণ টেনে বলেন, “তাহলে বাংলার মহিলারা বঞ্চিত কেন?”

স্বাস্থ্যসাথী বনাম আয়ুষ্মান ভারত
স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা নিয়েও চলছে পাল্টাপাল্টি লড়াই। তৃণমূলের বক্তব্য, রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যসাথীতে প্রতি পরিবারে বছরে পাঁচ লক্ষ টাকার চিকিৎসা বিমা দিচ্ছে এবং রাজ্যের মানুষকে চব্বিশ ঘণ্টা সুবিধা দিতে রাজ্যই পুরো দায় নিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি দাবি করছে, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে আয়ুষ্মান ভারতে দ্বিগুণ অর্থাৎ দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের ‘সফল ফর্মুলা’-কে অনুসরণ করে বিজেপি এবার সরাসরি প্রতিশ্রুতির পাল্টা প্রতিশ্রুতির রাজনীতি শুরু করেছে। ভোটের আগে রাজনীতির ময়দানে মূল প্রতিযোগিতা এখন স্পষ্টতই তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী বনাম বিজেপির ‘আড়াই হাজারি’ ও ‘আয়ুষ্মান দশ লক্ষ’-এর লড়াইয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy