পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন জনমুখী প্রকল্প ‘বাংলার যুবসাথী’ (Banglar Yubasathi) ঘিরে রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রকল্প শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবেদনের যে বিপুল ঢল নেমেছে, তা যেমন প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, ঠিক তেমনই রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে উসকে দিয়েছে এক বড় বিতর্ক।
কী নিয়ে বিতর্ক? মূলত রাজ্যের শিক্ষিত যুবকদের আর্থিক সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এই প্রকল্প আনা হলেও, আবেদনের সংখ্যা প্রত্যাশার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। সমালোচকদের মতে, কয়েক লক্ষ আবেদনকারীর এই লম্বা লাইন প্রমাণ করে দিচ্ছে যে রাজ্যে বেকারত্ব কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, শিল্প এবং স্থায়ী কর্মসংস্থানের অভাবের কারণেই শিক্ষিত তরুণ সমাজ এখন সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছে।
অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট: অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর চাপ সামলানো রাজ্য কোষাগারের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং কারা এই সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ভিড়ের চাপে আবেদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ পরীক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও। রাজ্য সরকার অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে যে, যুব সমাজের পাশে দাঁড়াতেই এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে কর্মসংস্থানের অভাব না কি উন্নয়ন—এই বিতর্কের মাঝেই ‘বাংলার যুবসাথী’ এখন বঙ্গ রাজনীতির হট টপিক।